হাম আক্তান্ত রোগীর চাপে হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, মেঝেতে চলছে চিকিৎসা

নোয়াখালীর হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
হামে আক্রান্ত শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে নোয়াখালীর হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ওয়ার্ড, কেবিন ও বারান্দায় জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে রোগীদের ভোগান্তির পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা।
৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত ৩৪ শিশু ভর্তি রয়েছে।
হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ওয়ার্ডটিতে শয্যা ১৫টি। একসময় ওয়ার্ডটি করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।
এ সংকটের মধ্যেই বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিন মাসের শিশু ফাতেমাকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন সাগুরিয়া এলাকার হেলাল উদ্দিন।
হেলাল দম্পতি শিশুটিকে নিয়ে প্রথমে হামের ওয়ার্ডে কোনো জায়গা পাননি। কেবিন ও বারান্দাতেও তখন রোগী ভর্তি ছিল। পরে এক রোগী চলে গেলে ফাতেমার জন্য একটি শয্যা পাওয়া যায়।
হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘তিন দিন আগে আমার মেয়ে শিশুটি অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে পল্লী ডাক্তার এবং ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তারের চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছেন শিশুটি হামে আক্রান্ত। পরে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
হাসপাতালে এসে সার্বিক পরিস্থিতি দেখে হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘একদিকে সিটের সমস্যা, অন্যদিকে দুর্গন্ধে আমরা নিজেরাও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।’
শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে হেলাল বলেন, ‘বাচ্চা জন্মের পর যেসব টিকা দেওয়া হয়, সেগুলো তো দিয়েছি। কিন্তু হামের টিকা সংক্রান্তে আশপাশে কোনো মাইকিং কিংবা প্রচারণা শুনিনি।’
শুধু ফাতেমা নয়, প্রতিদিনই নতুন নতুন হাম আক্রান্ত শিশু রোগী আসছে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তাদের অনেককেই জায়গার সংকটের কারণে মেঝেতে কিংবা হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালে দেড় বছর বয়সী নাতনিকে নিয়ে মেঝেতে বসে ছিলেন রেহানা নামের এক নারী। সেবা পেতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সকালে ডাক্তার এসে ঘুরে গেছেন, আমার নাতনিকে দেখেননি!’ তিনিও হামের টিকার বিষয়ে কোনো প্রচারণা শুনেননি বলে জানান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশে হামের সংক্রমণ ও প্রাদুর্ভাব বাড়তে শুরু করে। জুনের পর নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায়ও এর বিস্তার ঘটে। এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত যেসব শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছে, তাদের অনেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে। তবে গত মাসে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের নার্স ইনচার্জ তিথী মন্ডল।
তিথী মন্ডল বলেন, ‘সিট নেই। যে পরিমাণ রোগী আসছে, আমরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। রোগীর স্বজনরা ভিড় করছেন এবং অনেক সময় কাউন্সেলিং শুনছেন না। এতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে রোগের প্রাদুর্ভাব আরও বাড়তে পারে।’
হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসাসেবার পরিস্থিতি ও শয্যা সংকট নিয়ে গত দুই দিন ধরে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মানসী রানী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে এলেও কিছুক্ষণ অবস্থান করে পরে চলে যান বলে জানা গেছে। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়েও তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।
তবে হাম সংক্রমণ ও শয্যা সংকটের বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শেখ মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আগে হামের প্রভাব আরও বেশি ছিল। বরং এখন কমতেছে। সামনে আরও কমে আসবে।’
শয্যা সংকটের কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।



