কচুয়ায় পুকুরে নারীর মরদেহ, মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় হোসনেয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কচুয়া গ্রামের কয়েলের ভিটা সংলগ্ন বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহত হোসনেয়ারা বেগম ওই গ্রামের মৃত হানিফ আলী সিকদারের দ্বিতীয় স্ত্রী। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হোসনেয়ারাকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার ছেলে হাসিব শিকদার। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে মায়ের ভাসমান মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন তিনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মৃত হানিফ সিকদারের প্রথম স্ত্রী হালিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘তিনি কীভাবে মারা গেছেন বা কেন পুকুরে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেল, তা আমরা এখনো বুঝে উঠতে পারছি না। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের ঘরে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে থাকতে দেখেছি। তার পরিচয় জানতে চাইলেও আমাদের কিছু জানানো হতো না। ওই ব্যক্তির কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’
অপরিচিত ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে নিহতের ছেলে হাসিব শিকদার সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। এ বিষয়ে তার বক্তব্যেও অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেন উপস্থিত কয়েকজন।
নিহতের সৎভাই হারুন শিকদার বলেন, ‘ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা আমাদের কাছে পুরোপুরি অস্পষ্ট।’
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, হাসিব শিকদার মাদকাসক্ত। তাদের ধারণা, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাও হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কচুয়া থানার ওসি মো. আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এখনই মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব হচ্ছে না। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারে একজন অপরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতির বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। ওই ব্যক্তির বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। তাকে শনাক্ত করা গেলে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সহায়ক হতে পারে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।




