ঈদ আনন্দ নেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

ছবি: আগামীর সময়
পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশ জুড়ে উৎসবের আমেজ থাকলেও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে বিরাজ করছে ভিন্ন বাস্তবতা। কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা এসব ক্যাম্পে খাদ্য সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চাপা হতাশা আরও গভীর হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও রোহিঙ্গা বাসিন্দাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়া, চলাচলে কড়াকড়ি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পগুলোতে খুন, অপহরণ ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্কও বৃদ্ধি পেয়েছে।
উখিয়ার ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বসবাসকারী আব্দুল আমিন জানালেন, শুরুতে ক্যাম্পে কিছুটা সহায়তা পাওয়া গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তার ভাষ্য, আগে ঈদের সময় কিছু খাদ্য সহায়তা মিললেও এবার তেমন কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। পরিবার নিয়ে ঈদ পালন নিয়েই তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।
রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, ক্যাম্পে চলাচল ও জীবনযাপনে নানা বিধিনিষেধ থাকায় স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় অনেকেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের প্রধান দাবি, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন।
টেকনাফের নয়াপাড়া ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প-ইন-চার্জ মো. আবদুল হান্নান জানান, ক্যাম্পে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিত কাজ করছে। ঈদকে সামনে রেখে সীমিত পরিসরে কিছু খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না থাকায় তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম জানান, ক্যাম্পের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ দিচ্ছে না। ঈদের আনন্দ থাকলেও সেখানে স্বস্তি নেই। প্রতিদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যেও তারা এখনো শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের স্বপ্ন দেখছেন।






