বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট এখন শুধুই স্মৃতি

মঠবাড়িয়ায় বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট। ছবি: আগামীর সময়
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার স্টিমারঘাটের পল্টুনটি সরিয়ে নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় লোকজনের কাছে বড়মাছুয়া স্টিমারঘাটটি এখন শুধুই স্মৃতি।
গতকাল বুধবার বিকালে ঐতিহ্যবাহী এ স্টিমারঘাটের পল্টুন সরিয়ে নেওয়া হয়।
১৯৮৫ সালে বলেশ্বর নদীর তীরে এ স্টিমারঘাটটি চালু হয়। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের তাণ্ডবে স্টিমারঘাটটি রাস্তায় উঠে যায়। পল্টুনটি নদীতে নামাতে না পারায় পরে ঘাটে আরও একটি অস্থায়ী পল্টুন আনা হয়। ২০০৯ সালে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে যাত্রীদের নিরাপদে ওঠা-নামার জন্য ঘাটে পল্টুন স্থাপন করা হয়। পরে পন্টুনের সঙ্গে বেইলি সেতু নির্মাণ করে সেটির সড়ক সংযোগও দেওয়া হয়।
নানা কারণে পরে স্টিমার চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পন্টুন ও ঘাটের সেই ব্যস্ততাও ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে পড়ে। তবুও পল্টুনটি দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে ছিল। মানুষজন নদীর পাড়ে ঘুরতে আসলে এই পল্টুনে বসে সময় পার করতেন।
এক সময় প্রতিদিন ঢাকা থেকে এই রুটে চাঁদপুর, বরিশাল ও মোড়েলগঞ্জসহ অনেক ঘাট পেড়িয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে বলেশ্বরের বুক চিরে ছুটে যেতো অস্ট্রিজ, গাজী ও এমভি মাসুদের মতো নামকরা অনেক জাহাজ। এভাবেই বামনা, বরগুনা ও পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র নৌপথ ছিল বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট। এই ঘাট থেকে মানুষজন বিভিন্ন রুটে নৌযানে আসা-যাওয়া করতেন।
এই ঘাটেই দেশী-বিদেশী পর্যটক নিয়ে অনেক জাহাজ ভিড়ত। দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে এটি ছিল একমাত্র নৌরুট। এই পথ দিয়েই পণ্য আনা-নেওয়া করতেন ব্যবসায়ীরা। এ ঘাট থেকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল ও ঢাকায় যেত মানুষ।
ঘাটে স্টিমার আসার সময় হলে পল্টুন এলাকায় তৈরী হতো মানুষের ব্যস্ততা, বাড়তো দূরগামী যাত্রীদের কোলাহল। বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট ছিল জমজমাট এক বাজার। অসংখ্য কুলিদের আনাগোনা ছিল এ ঘাটে। পল্টুন ঘিরে বাজারে ছিল অনেক ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক হাজারো মানুষের কোলাহল।
এই ঘাটের এক সময়ের কুলির সরদার মো. ইউনুস মিয়া বললেন, ‘ঘাট ঘিরে রয়েছে আমাদের বহু স্মৃতি। ঘাটে স্টিমার আসলে আমাদের ব্যস্ততা যেমন বাড়তো, তেমনি আমরা খুশিও হতাম। ঘাটে দূরদুরান্ত থেকে আসা অনেক মানুষের ব্যাগ আমরা জাহাজ থেকে নামিয়ে ঘাট পার করে দিতাম। বিনিময়ে আমাদের তারা বকশিস দিতো, খুশি করতো। এ দিয়েই এক সময় চলতো আমাদের সংসার। এখন তা শুধুই স্মৃতি। শেষ স্মৃতি আমাদের পল্টনঘাটও আজ সরিয়ে নেয়া হলো।’
স্থানীয়রা জানান, বলেশ্বর নদী খাকবে, থাকবে ফেরী কিংবা খেয়াঘাট। কিন্তু কখনো এই ঘাটে ভিড়বেনা স্টিমার ও জাহাড়। বাজবে না আর স্টিমারের সেই চিরচেনা হুইসেল।








