এক সপ্তাহ পর অপহৃত কিশোরী উদ্ধার, গ্রেপ্তার প্রধান আসামি

গ্রেপ্তার হওয়া জাহিদ হাসান রাজ। সংগৃহীত ছবি
অপহরণের প্রায় এক সপ্তাহ পর এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি জাহিদ হাসান রাজকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার রাতে ঢাকার পূর্বাচল এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ বছর ১১ মাস বয়সী কিশোরীকে।
আজ সোমবার সকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন।
গ্রেপ্তার জাহিদের বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের দক্ষিণ পানজোড়া গ্রামে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয় ওই কিশোরী। কিন্তু এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে পরিবারের কাছে খবর আসে, স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে থেকে জাহিদসহ কয়েকজন তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে গেছে। উপজেলার পানজোড়া গ্রামে ঘটে ঘটনাটি।
ঘটনার রাতেই কিশোরীর মা কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে জাহিদকে প্রধান করে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ মামলা করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এসআই অপূর্ব কুমার বাইন বলেছেন, ‘মামলা হওয়ার পর থেকেই ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’
কিশোরীর মা জানিয়েছেন, স্থানীয় যুবক জাহিদ প্রতিদিন তাদের বাড়িতে গিয়ে তার মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতেন।
মামলার এজাহারে কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, মেয়ের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জাহিদের বাড়িতে যান। সেখানে কিশোরীর বিষয়ে জানতে চাইলে অপহরণের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে তারা জানান। কিশোরী কোথায় আছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বরং তাকে ফেরত দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মেয়ের সন্ধান চেয়ে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা মারধর করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন কিশোরীর মা। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সালিশ করলে কিশোরীর ক্ষতি করার এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মামলাটি আপস-মীমাংসার জন্য স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষ কিশোরীর মাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে।
তবে এমন আপসের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ওসি মো. জাকির। তিনি জানান, মামলা হওয়ার পর থানায় কিংবা অন্য কোথাও বসে আপস-মীমাংসার সুযোগ নেই। বিষয়টির সিদ্ধান্ত আদালতেই হবে।
তিনি বলেছেন, ‘কিশোরীকে কীভাবে, কার মাধ্যমে এবং কোন পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল— তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। পাশাপাশি মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







