৪ সাহিত্যিক পেলেন ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’

ছবি: আগামীর সময়
চার তরুণ সাহিত্যিককে সিটি ব্যাংক-নিবেদিত ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতিবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘কালি ও কলম’ বাংলাদেশের নবীন কবি ও লেখকদের সৃজনধারায় গতি সঞ্চার ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ২০০৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত ৭১ তরুণ কবি ও লেখক এ মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। পুরস্কারটির অর্থমূল্য ২ লাখ টাকা।
‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’-এর ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আয়োজনের সূচনা হয়। এরপর পুরস্কৃতদের নাম ঘোষণা করেন বিচারকমণ্ডলীর সদস্য সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
এবার পুরস্কার পেয়েছেন চার তরুণ সাহিত্যিক। তারা হলেন কবিতা বিভাগে রনক জামান, গ্রন্থ ‘এই গ্রাম কুড়িয়ে পেয়েছি’; প্রবন্ধ ও গবেষণা বিভাগে রাফাত আলম, গ্রন্থ ‘বাংলাদেশ পাঠ : সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্রিয়াশীলতার অনুষঙ্গে’; কথাসাহিত্য বিভাগে হামিম কামাল, গ্রন্থ ‘ত্রিস্তান’; এবং শিশু-কিশোর সাহিত্য বিভাগে রবিউল কমল, গ্রন্থ ‘দস্যু ও দুই দুরন্ত’।
মুক্তিযুদ্ধ ও বিপ্লব বিভাগে মানসম্মত গ্রন্থ না পাওয়ায় কোনো পুরস্কার দেওয়া হয়নি।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী। বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনেক বড় দায়িত্ব এখন তোমাদের ওপর।’
অন্য সাহিত্যিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি ৫০ বছর বয়স পার হওয়ার পর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছিলাম, অথচ তোমরা ৪০ ছোঁয়ার আগেই এমন একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছ। আশা করি, এই বিশেষ সুযোগটি তোমাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই। তিনি পুরস্কারের নির্ধারিত পাঁচটি বিভাগের সৃজনশীল ও মননশীল নানা দিক উপস্থিত সবার সামনে তুলে ধরেন। বক্তব্যে ভাষার সঠিক ও প্রমিত ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘ভাষাই মূলত সাহিত্যের মূল বাহন; তাই সাহিত্যের গভীরতা স্পর্শ করতে হলে ভাষার প্রতিটি অলিগলি ও সূক্ষ্মতা জানা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি পাঁচটি বিভাগের পাশাপাশি আগামী দিনে ‘ভ্রমণ সাহিত্য’কে নতুন একটি বিভাগ হিসেবে যুক্ত করার অনুরোধ জানান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন, কালি ও কলমের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফারুক মাহমুদ এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।
বুদ্ধির মুক্তির আন্দোলনের ঐতিহ্যমণ্ডিত সংগঠন ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর শতবর্ষ উদযাপিত হচ্ছে এ বছর। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের মঞ্চে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর বিভিন্ন সভায় গীত ঐতিহাসিক গানগুলো একক কণ্ঠে পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী প্রিয়াংকা গোপ। তিনি ‘মোর বীণা ওঠে’, ‘আসিলে কে গো অতিথি’, ‘বসিয়া বিজনে’, ‘দুর্গম গিরি’সহ বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের পরিচয়
রনক জামান (কবিতা) : কবি ও অনুবাদক রনক জামান ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালে মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ঘামগুলো সব শিশিরফোঁটা’, ‘অগ্রন্থিত ওহী’, ‘শামুকচর্য’ এবং ‘এই গ্রাম কুড়িয়ে পেয়েছি’।
রাফাত আলম (প্রবন্ধ ও গবেষণা) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক রাফাত আলম বাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাস, রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘শরীরী অশরীরী’, ‘অসময়ের ঘ্রাণ’, ‘এইটা কোনো ব্যাকরণের বই না’ এবং ‘বাংলাদেশ পাঠ : সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্রিয়াশীলতার অনুষঙ্গে’।
হামিম কামাল (কথাসাহিত্য) : ৯ আগস্ট ১৯৮৭ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী কথাসাহিত্যিক হামিম কামাল আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বাস্তব, অধিবাস্তব ও বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে তিনি সাহিত্যচর্চা করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘জঠর’, ‘কারখানার বাঁশি’, ‘এক সন্ধ্যায় শ্যামশ্রী রায়’ এবং ‘ত্রিস্তান’।
রবিউল কমল (শিশু-কিশোর সাহিত্য) : সাংবাদিক ও শিশুসাহিত্যিক রবিউল কমল বান্দরবানের আজিজনগরে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যবসায় প্রশাসনে উচ্চশিক্ষার পর তিনি বর্তমানে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত। তার প্রকাশিত জনপ্রিয় শিশু-কিশোর গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘দস্যু ও দুই দুরন্ত’, ‘রোমেল ও ঘড়িভূত’ এবং ‘জেলিয়েন ও ভূতের ট্রেন’।





