চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স অচল, ভোগান্তিতে রোগীরা
- তিন সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের দুটি অচল
- একটি ২১ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে, অন্যটি গ্যারেজে তালাবদ্ধ

কক্সবাজারের ১০০ শয্যা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের দুটি অচল পড়ে আছে। এর একটি হাসপাতাল চত্বরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে ২১ বছর ধরে। অন্যটি আংশিকভাবে সচল থাকলেও মেরামত না করায় দেড় বছর ধরে গ্যারেজে তালাবদ্ধ। ফলে সংকটাপন্ন রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা। বাধ্য হয়ে অনেককে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে প্রথম অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ পায় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মিতসুবিশি এল-৩০০ মডেলের ওই অ্যাম্বুলেন্সটি ২০০৫ সালে অচল হয়ে পড়ে। পরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয় গাড়িটিকে অকেজো ঘোষণা করে। এটি নিলামে বিক্রির জন্য স্বাস্থ্য বিভাগে সুপারিশ করা হয়। এরপর থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল চত্বরে পড়ে আছে।
২০০৮ সালে জাপানি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিশান আরবান মডেলের আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স পায় হাসপাতালটি। প্রায় ১৭ বছর রোগী পরিবহনের পর ২০২৫ সালে সেটিও অকেজো হয়ে যায়। এ অ্যাম্বুলেন্সের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরবর্তী করণীয় জানিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ২০১৮ সালে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টয়োটা হাইয়েস মডেলের একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনটির মধ্যে এটিই সচল। তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর জন্য চালক রয়েছেন মাত্র একজন।
সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবনের স্টাফ কোয়ার্টারের নিচে তালাবদ্ধ গ্যারেজে পড়ে আছে টয়োটা হাইয়েস অ্যাম্বুলেন্সটি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় গাড়িটির গায়ে ধুলার আস্তরণ পড়েছে। গ্যারেজ থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে পুরনো অ্যাম্বুলেন্সটি। চারপাশে লতাপাতা ও আগাছা জন্মেছে।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জায়নুল আবেদীন বললেন, তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি সচল আছে। একটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে। অন্যটি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।



