নারী আটক
কক্সবাজারে পর্যটকদের মারধর, ছিনতাইয়ের চেষ্টা

ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সি-গাল পয়েন্টের ঝাউবাগানে বেড়াতে আসা একদল পর্যটককে মারধর, ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয় ফটোগ্রাফার ও ট্যুরিস্ট পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে পর্যটকেরা বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
এই ঘটনায় জড়িত চক্রের এক নারী সদস্যকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে ১১ জনের একটি দল ছয়টি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রায় ১৬ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা শেষে সকালে কক্সবাজারে পৌঁছান। কিছুক্ষণ বিশ্রাম ও খাবার খাওয়ার পর তারা সৈকতের ঝাউবাগান এলাকায় ঘুরতে যান। সেখানে একটি মোটরসাইকেল পার্কিং করে ছবি তুলছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী দলের সদস্য রাহাত বললেন, ‘হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে মোটরসাইকেলটি তার বলে দাবি করে। পরে আরও কয়েকজন সেখানে জড়ো হয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে। তারা মোটরসাইকেলটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমরা বৈধ কাগজপত্র দেখানোর কথা বললেও তারা উত্তেজিত আচরণ শুরু করে। একপর্যায়ে আমার বন্ধু সাব্বিরকে মারধর করা হয় এবং ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।’
‘পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে আমরা ট্যুরিস্ট পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করে। তাদের সহযোগিতা না পেলে বড় ধরনের বিপদে পড়তে হতো,’ যোগ করেন তিনি।
মারধরের শিকার পর্যটক সাব্বির জানান, ‘সৈকত এলাকায় পর্যটকদের আরও জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যেন কেউ এমন ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ফটোগ্রাফারও পর্যটকদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। তাদের অভিযোগ, সৈকতের ঝাউবাগান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র পর্যটক, ফটোগ্রাফার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি করে আসছে।
সি-গাল পয়েন্ট এলাকায় দীর্ঘ দুই দশক ধরে কর্মরত স্থানীয় ফটোগ্রাফার জয়নাল। তিনি বলেছেন, এখানে কিছু ছিন্নমূল যুবক রয়েছে, যারা সুযোগ পেলেই পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। ট্যুরিস্ট পুলিশ দ্রুত উপস্থিত হওয়ায় অভিযুক্তদের একজন পালিয়ে গেলেও এক নারীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিনি সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে জলতরঙ্গ পর্যন্ত ঝাউবাগান এলাকায় নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি জানান।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক মো. পারভেজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘সিলেট থেকে আসা পর্যটকদের একটি মোটরসাইকেল কিছু ব্যক্তি নিজেদের বলে দাবি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করে। পরে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।’




