গ্যাস সংকটে সিএনজিচালকের আকুতি ‘এ কেমন জীবনরে ভাই’

ছবি: আগামীর সময়
‘পকেটে টাকা নাই। পেটে নাই ভাত। বাজার নাই ঘরে— ‘এ কেমন জীবনরে ভাই!’ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে কথাগুলো বলছিলেন সিএনজিচালক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। স্ত্রী, ১ ছেলে ও ১ মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। গত এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
গতকাল রাত থেকে গ্যাসের আশায় শহরের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে ঘুরেছেন তিনি। শেষমেশ সিআরবি মোড় থেকে লাইনে দাঁড়ালেন। রাত কাটিয়ে আজ সোমবার দুপুর ১টায় আধা কিলোমিটার দূরের কদমতলী মোড়ের সিএনজি পাম্পের কাছাকাছি এসে পৌঁছেছেন মাত্র। এর মধ্যেই গ্যাস বন্ধ। তখনো তিনি গ্যাস পাওয়ার অপেক্ষায়।
আয়ের একমাত্র উৎস সিএনজিতেই সারারাত কাটাতে হয়েছে তাকে। পকেটে ছিল মোটে ৫০০ টাকা। গত রাত ২০০ টাকার খাবার খেয়ে ফেলেছেন। বাকি ৩০০ টাকা রেখেছেন গ্যাসের জন্য। গ্যাস আদৌ পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। কারণ গতকাল রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত গ্যাস দিয়েছিল পাম্প। পরবর্তী গ্যাস কখন দিবে জানে না কেউ।
শাহাবুদ্দিন জানালেন, 'আগে ৫-৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস মিলত। গাড়ির মালিকের দৈনিক ১ হাজার ১০০ টাকার পাওনার চাপ, পরিবারের ভরণপোষণ সবমিলিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছি।’
শাহাবুদ্দিনের মতো একই কষ্টে অন্য চালকরাও। মোহাম্মদ আমির হোসেন ও মহসিনসহ আরও অনেক চালক জানালেন, তারা একইভাবে সিআরবি সাত রাস্তার মোড় থেকে কেউ ভোর ৪টা কেউবা ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দুপুর পর্যন্ত গ্যাস পাম্পের সামনে আসতে পারেননি। পকেটের শেষ সম্বলটুকু ফুরিয়ে গেছে অনেকের।
দিনভর রোদে পুড়ে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে গ্যাস না পেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে অনেকে। গ্যাসের এই তীব্র সংকটের কারণে বর্তমানে রাস্তায় সিএনজিচালিত যানবাহনের সংখ্যাও অনেক কমে গেছে। প্রতিটি সিএনজি স্টেশনের সামনে অটোরিকশা ছাড়াও প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও পিকআপের মতো গ্যাসচালিত গাড়ির দীর্ঘ লাইন।
গ্যাসসংকটের প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতেও। পাম্পে দীর্ঘ সারি এবং জ্বালানি সংকটের অজুহাতে চলাচলরত সিএনজিচালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন।
শিক্ষার্থী আতিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘কাজীর দেউড়ি মোড় থেকে মহসিন কলেজ পর্যন্ত নিয়মিত সিএনজি ভাড়া ৮০ টাকা হলেও বর্তমান সংকটের অজুহাতে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন।’
এ ছাড়া চট্টগ্রামের বেশ কিছু এলাকায় বাসাবাড়িতেও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে হোটেল ও রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। কেউবা বিকল্প চুলায় রান্না-বান্না করছেন।
অন্যদিকে, কল-কারখানা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পোশাকশিল্পে গ্যাসসংকটের কারণে উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। যার ফলে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা।
মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে আমেরিকার এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে বয়লারে আগুন লাগায় সেই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজির বিপরীতে এখন সরবরাহ অর্ধেক কমে মিলছে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর প্রভাব পড়েছে শিল্প ও আবাসিকে। আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে সেই টার্মিনাল মেরামত করা গেলে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা।






