নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
অর্থনীতির গেম চেঞ্জার হতে পারে লালদিয়া টার্মিনাল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিদেশি বিনিয়োগে দেশের প্রথম কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়ার চরে। ডেনমার্কের মায়ের্সক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস এই টার্মিনাল নির্মাণে ৭৬ কোটি ডলার বা ৯ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হলে দেশের কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এটি হয়ে উঠতে পারে দেশের অর্থনীতির গেম চেঞ্জার।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা আছে। ২০৩০ সালে চালু হবে টার্মিনাল। এপিএম টার্মিনালসের এই প্রকল্পে লোকাল পার্টনার হিসেবে আছে দেশীয় কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেড।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এপিএম টার্মিনালসের এ-সংক্রান্ত চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় গত ২২ এপ্রিল লালদিয়ার ৪৯ দশমিক ১৫ একর জমি এপিএমকে বুঝিয়ে দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর নকশা প্রণয়ন শেষে এবার শুরু হলো নির্মাণকাজ। গতকাল রবিবার সকালে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বললেন, সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের লালদিয়ায় এপি মুলারের টার্মিনাল নির্মাণ বড় মাইলফলক। তিনি বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য একটি লজিস্টিক হাব হয়ে উঠবে। লালদিয়া প্রকল্প ছাড়াও আমরা বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখা জুড়ে আরও বেশ কয়েকটি বড় বন্দর সুবিধা, প্রকল্প ও লজিস্টিক সেন্টার স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করছি।’
জার্মানভিত্তিক পরামর্শক হামবুর্গ পোর্ট কনসাল্টিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ একক কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সক্ষমতা রয়েছে। লালদিয়া চালু হলে আরও ৯ লাখ একক কনটেইনারের সক্ষমতা যুক্ত হবে। তাতে বন্দরের মোট সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে বছরে প্রায় ৪৪ লাখ একক কনটেইনার। বর্তমানে বন্দরের মূল টার্মিনালগুলোতে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফট এবং ২ হাজার ৮০০ একক কনটেইনার ধারণক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানো যায়। এপিএম টার্মিনালসের তথ্য অনুযায়ী, লালদিয়ায় সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের প্রায় ৬ হাজার একক কনটেইনার ধারণক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানো যাবে।
চুক্তি অনুযায়ী, একটানা ৩০ বছর এটি পরিচালনা করবে এপিএম টার্মিনালস। চুক্তির শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরিচালনার মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বছরে প্রথম ৮ লাখ একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো পর্যন্ত প্রতিটির জন্য এপিএম টার্মিনালসের কাছ থেকে ২১ ডলার করে পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ৮ লাখের বেশি থেকে ৯ লাখ পর্যন্ত প্রতিটি কনটেইনারের জন্য পাওয়া যাবে ২৩ ডলার। টার্মিনাল চালুর আগে এককালীন ফি হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ পাবে ২৫০ কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানে এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রমেশ ডেভিড বললেন, ‘পূর্ণাঙ্গ চালুর পর লালদিয়া টার্মিনালটি বাংলাদেশের কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করবে।’
তিনি জানালেন, এই সুবিধায় থাকবে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটি, ৭টি শিপ-টু-শোর ক্রেন, ৩২টি বৈদ্যুতিক রাবার-টায়ারড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি বৈদ্যুতিক টার্মিনাল ট্রাক্টর।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান জানালেন, টার্মিনালটি চালু হলে এটি একসঙ্গে ৬ হাজার টিইইউ পর্যন্ত ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ পরিচালনা করতে পারবে, যা বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি নোঙর করা জাহাজের সক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ।
জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর তীরে ৪৯.১৫ একর জমির ওপর টার্মিনালটি গড়ে তোলা হবে। এর নির্মাণকাজ তিন বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তিটির মেয়াদ হবে ৩০ বছর, যা পরবর্তী সময়ে আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।







