চিন্ময় কৃষ্ণের বিরুদ্ধে এক মামলার তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন

সংগৃহীত ছবি
কারাবন্দি ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করেছেন আদালত। আজ বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক এ আদেশ দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশের সঙ্গে চিন্ময়ের অনুসারীদের সংঘর্ষের সময় আইনজীবীদের ওপর হামলার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছিল। মামলা করেছিলেন খুন হওয়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের ভাই।
দেড় বছর ধরে মামলাটি তদন্ত করে আসছিল নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অগ্রগতি না হওয়ায় আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের এ আদেশ বলে জানালেন চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারী পিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী, ‘দেড় বছর ধরে তদন্ত চলছে। কোনো আসামি গ্রেপ্তার নেই। তদন্তেও অগ্রগতি হয়নি। এজন্য বাদী তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন। আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বাদীর আবেদনের ওপর শুনানি হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত পিবিআইকে তদন্তভার দেন।’
তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি-উত্তরের সহকারী কমিশনার মো. মোস্তফা কামাল আদালতের কাছে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলেও জানালেন রায়হানুল ওয়াজেদ।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী আন্তর্জাতিক শ্রীকৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) থেকে বহিষ্কৃত হয়ে সনাতনী জাগরণ জোট নামে একটি সংগঠন গড়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি এ সংগঠনের মুখপাত্র পরিচয়ে সভা-সমাবেশ শুরু করেন।
এর মধ্যে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার এক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপি। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু চিন্ময়ের অনুসারীরা প্রায় তিন ঘণ্টা তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান আদালত এলাকায় আটকে রাখে।
একপর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখন আদালত প্রাঙ্গণ থেকে নগরীর লালদিঘীর পাড় হয়ে কোতোয়ালী এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। আদালত প্রাঙ্গণের অদূরে নগরীর বান্ডেল সেবক কলোনির সামনে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে খুন করা হয়।
আলিফ খুনের ঘটনায় ২৯ নভেম্বর তার বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করেন। মামলার বিচার চলছে।
এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়। মামলাগুলোর তদন্ত চলছে।




