চট্টগ্রাম বন্দর
নৌমন্ত্রীর বক্তব্য ‘বাস্তবতাবর্জিত’ বলল বন্দর রক্ষা কমিটি

ছবি: আগামীর সময়
নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের বক্তব্যকে বাস্তবতাবিবর্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলেছে বন্দর রক্ষা কমিটি ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। এই বক্তব্য জাতিকে বিভ্রান্ত করার শামিল বলেও মনে করে সংগঠনটি।
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির বর্ষপূর্তি ও বিশ্ব মেরিটাইম দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী।
সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রাম পোর্টকেন্দ্রিক জাহাজ ব্যবস্থাপনা, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা, কার্গো ব্যবস্থাপনা- একটা স্থবির মানে ছিল, প্রয়োজনের মতো ছিল না। সেই স্থবিরতা কাটাতে বিশ্বের কনটেইনার হ্যান্ডলিং বা পোর্ট হ্যান্ডলিং করতে যারা জানে এবং বোঝে, সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলিকে এখানে এনে আমরা আরও বেশি সমৃদ্ধ হবার পথ উন্মুক্ত করেছি, প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং প্রতিষ্ঠার পর্যায়ে আছি।’
নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি ও ট্রেড ইউনিয়ন।
এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের এক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছিল বন্দর রক্ষা কমিটি। তখন মনিরুজ্জামান প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘এনসিটি দুবাইভত্তিক বন্দর পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দিলে আরব আমিরাতে থাকা ৩৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি ঝুঁকিতে পড়বেন। আর বন্দরের যন্ত্রপাতির বেশিরভাগই অকেজো হয়ে গেছে।’
যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারী, কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও দেশীয় দক্ষ জনশক্তির নিরলস শ্রম, অভিজ্ঞতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দর তার কার্যক্রম সচল রেখেছে। প্রতিকূল আবহাওয়া, সমুদ্রের সতর্ক সংকেত ও নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও শ্রমিক-কর্মচারীরা ঝুঁকি নিয়ে বন্দরের কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করেছেন।
বিবেৃতিতে তারা বলেন, লাভজনক চট্টগ্রাম বন্দরের অর্জিত অর্থ দিয়ে পায়রা বন্দর ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সচল থাকা এই বন্দরে নতুন করে বিনিয়োগের কোনো প্রয়োজন নেই। উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের অজুহাতে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) মতো লাভজনক টার্মিনালগুলো দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে দিলে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও শ্রমিক স্বার্থ হুমকির মুখে পড়বে।
নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দেন, বন্দরের লাভজনক স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ বাতিল এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর প্রধান ফটকের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিসহ ধারাবাহিক আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিমুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নূরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তাসলিম হোসেন সেলিম, বন্দর লেসিং-আনলেসিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. পারভেজ, বন্দর মার্সেন্টস ইউনিয়নের নেতা মো. হারুন, আলমগীর হোসেন সাজু, স্টিভডোরিং স্টাফ ইউনিয়নের নেতা মো. ফয়েজুল্লাহ এবং উইসম্যান কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন প্রমুখ।





