চুয়েটের ১১৭ কোটি টাকার ইনকিউবেটর নিয়ে অর্থমন্ত্রীর অসন্তোষ

১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইনকিউবেটর
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) স্থাপিত ইনকিউবেটরটি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘ইনকিউবেটরে বিনিয়োগ হলেও সেখান থেকে কোনো ফল আসছে না। শুধু অবকাঠামো বা ভবন নির্মাণ করলেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
মঙ্গলবার চুয়েট ক্যাম্পাসে কর্ণফুলী পানি শোধনাগার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২২ সালের জুনে চুয়েটে ১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৭ একর জায়গার ওপর নির্মাণ করা হয় দেশের প্রথম ক্যাম্পাসভিত্তিক আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর।
এই ইনকিউবেটর প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বললেন, ‘তিনটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত ইনকিউবেটরটি পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। এর সমাধানে আসতে হবে। আমি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলব। এটিকে কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা করতে ভিসি (উপাচার্য) সাহেবকে ঢাকায় আসতে হবে।’
যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে সুনির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড বিবেচনার ওপর জোর দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। তার মতে, ‘প্রকল্পের ক্ষেত্রে অর্থের উপযোগিতা (ভ্যালু ফর মানি), বিনিয়োগের বিপরীতে আয় (রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট), কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবন সূচকে (র্যাঙ্কিংয়ে) এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান উপাচার্য পরিবর্তন আনতে চাচ্ছেন, তার বেশ কিছু ভালো ধারণা রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে সময়ের মূল্য ও নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে কড়া বার্তা দেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বললেন, ‘সব কর্মসূচি সময়মতো শেষ করতে হবে। এটাই প্রথম বিষয়, যা আমাদের শুরু করতে হবে। কেউ এক ঘণ্টার বেশি মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, সাত মিনিট পরই দর্শকের মনোযোগ বিঘ্নিত হয়। মানুষ সময়মতো আসবে, শুনে চলে যাবে, সবার সময়ের মূল্য আছে। আমাদের এই সংস্কৃতির পরিবর্তন হওয়া দরকার।’
অবসান হচ্ছে ৩০ বছরের পানি সংকটের
এর আগে মন্ত্রী চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ণফুলী পানি শোধনাগার থেকে চুয়েট পর্যন্ত পানি সরবরাহ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্য দিয়ে চুয়েটের দীর্ঘ ৩০ বছরের সুপেয় পানির সমস্যার অবসান হতে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করলেন, বর্তমান সরকার সবার জন্য সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। এই কাজ শেষ হলে চুয়েটের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম।
ওয়াসা সূত্র জানায়, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চুয়েটে বর্তমানে ৬ হাজার ৩৬৭ জন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ মোট ১ হাজার ৫৩ জন জনবল রয়েছে। আবাসিক হল ও কোয়ার্টার মিলিয়ে ক্যাম্পাসে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষ বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে চাহিদা মেটানো হলেও, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে ক্যাম্পাসে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এই সংকট নিরসনে গত ১৫ জুন ওয়াসার কাছে আবেদন করে চুয়েট কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্ণফুলী পানি শোধনাগার ১ ও ২ থেকে চুয়েট পর্যন্ত আট ইঞ্চি ব্যাসের বিতরণী পাইপলাইন স্থাপনের কাজ হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।







