যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ায় যুদ্ধের শঙ্কায় কিউবা

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কিউবা। অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি অবরোধ ও নতুন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জনগণকে সম্ভাব্য অস্থিরতার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার।
সম্প্রতি কিউবা সফর করেন সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। তার এই সফরকে দুই দেশের চলমান উত্তেজনার বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সফরের পরপরই প্রকাশ পায় সাবেক কিউবান প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ গঠনের সম্ভাবনার খবর। এতে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও উত্তপ্ত।
কিউবার কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভেঙে পড়তে পারে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক। একই সঙ্গে বাড়তে পারে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকিও।
মে দিবসের অনুষ্ঠানে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল মন্তব্য করেন, প্রয়োজনে বিপ্লব রক্ষায় জীবন দিতেও প্রস্তুত তারা। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণের ছবিও। সেখানে দেখা গেছে পুরোনো সোভিয়েত অস্ত্র ব্যবহার করে মহড়ার দৃশ্য।
কিউবার সামরিক পরিকল্পনায় সরাসরি সেনাবাহিনীর লড়াইয়ের চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গেরিলা যুদ্ধের কৌশলকে। একে ‘সমগ্র জনগণের যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন দেশটির প্রয়াত নেতা ফিদেল কাস্ত্রো।
অন্যদিকে দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ কিউবানরা। যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের কারণে ভয়াবহ আকার নিয়েছে বিদ্যুৎ সংকট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় নষ্ট হচ্ছে খাবার, হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে ওষুধের সংকট এবং দাম বেড়েছে নিত্যপণ্যের।
হাভানার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে হয়েছে বিক্ষোভও। এক বিক্ষোভকারী বলেছেন, ‘অন্তত শেষ হোক এই কষ্টের। অর্ধেক মানুষ বাঁচলেও যেন শান্তিতে থাকতে পারে তারা।’
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবায় সরকার পতনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে দেশটিতে। কিউবান-আমেরিকান ইতিহাসবিদ অ্যাডা ফেরার বলেছেন, কিউবার ইতিহাসে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রায়ই দেখা গেছে সহিংসতা।
এদিকে কিউবার সিভিল ডিফেন্স বিভাগ জনগণের জন্য প্রকাশ করেছে একটি নির্দেশিকা। সেখানে সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের সময় করণীয় সম্পর্কে দেওয়া হয়েছে পরামর্শ। শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে নাগরিকদের।
তবে এসব প্রস্তুতিকে বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন না সাধারণ মানুষের একাংশ। হাভানার এক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলছে তারা, কিন্তু আমাদের তো সবকিছু ফুরিয়ে গেছে আগেই।’




