এক মেরু নয়, বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার ডাক ইরানের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে শেষ হয়ে গেল দুদিনের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলন। গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিন সংস্থাটির সদস্য দেশ পর্যবেক্ষক ও অংশীদারদের নিয়ে আয়োজিত ‘এসসিও প্লাস’ শীর্ষক বৈঠকে বক্তব্য দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এ সময় তিনি এক মেরু নয়, বরং বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার আহ্বান জানালেন। পেজেশকিয়ান নতুন এই ডাক দেন যখন বিশ্ব জুড়ে বেড়ে চলেছে সংঘাত, অনিশ্চয়তা। প্রায় এক মাস বিরতির পর গত রবিবার ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবার দেশটির ওপর ‘কঠোর’ হামলার হুমকিও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতির মধ্যে নিজেদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় নিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার এসসিও জোটের ২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে এবারের সম্মেলন। এসসিও প্লাসের বৈঠকে অংশ নেন ১২টি সদস্য দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বনেতাদের দেওয়া বক্তৃতায় পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের ফলে যেন ক্ষমতার এক কেন্দ্রের জায়গায় অন্য কেন্দ্রকে বসানো এবং আধিপত্যের হস্তান্তর না ঘটে।’ বহুপাক্ষিকতা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সমতা ও আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে একটি বহুমুখী বিশ্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান।
সম্মেলনে আরও ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ অনেকে। সংলাপে অংশীদার হিসেবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ এক ডজনের বেশি রাষ্ট্রপ্রধান এতে যোগ দিয়েছেন।
চীন-রাশিয়ার সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রত্যয়: কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের মধ্যে সোমবার বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং ও ভ্লাদিমির পুতিন। এ সময় দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার ও দৃঢ় করার বিষয়ে সম্মত হন তারা। চলতি বছরের মে মাসে চীন সফর করেন পুতিন। এসসিওয়ের সম্মেলনে আবার সাক্ষাৎ হওয়ায় শি মন্তব্য করেন তিনি অনেক ‘খুশি’। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ‘আরও জোরদার’ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও দুই দেশের ভালো সম্পর্ক অব্যাহত থাকা উচিত বলে যোগ করেন শি। পুতিন জানিয়েছেন, ‘সর্বক্ষেত্রে সফলভাবে সহযোগিতা গড়ে উঠছে।’
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে রাশিয়া। এ সময় দেশটির অর্থনীতি ক্রমেই চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমা দেশগুলো বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে এই সামরিক অভিযান বন্ধ করার। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রুশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুই নেতার মধ্যে মূলত অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কথা হয়েছে শুধু ‘সংক্ষেপে’ বা ‘প্রসঙ্গক্রমে’।
ইরানে ‘কঠোর’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের: হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত লারকা দ্বীপে গত রবিবার হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরান জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। পাল্টাপাল্টি হামলার পর সোমবার ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা তাদের ওপর কঠিন আঘাত হানব।’ যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন হয়তো নতুন কৌশলের দিকে ঝুঁকছে। দেশটির নতুন পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’— এমন একটি যুদ্ধকৌশল। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংঘাতে না জড়িয়েও ইরানকে মাঝেমধ্যে আঘাত করবে, এটি তাদের নতুন কৌশল।
বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কিছু কারণে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকাল চাপ বজায় রাখতে পারবে না। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি আলজাজিরাকে বললেন, ‘আমাদের বিবেচনায় রাখা উচিত, এ যুদ্ধটি ওয়াশিংটনের ভুল হিসাবনিকাশের ওপর ভিত্তি করে শুরু হয়েছিল; আর বর্তমানে মনে হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের গতিপথ নিয়ে তারা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী।’







