ব্রাজিলের নির্বাচন: প্রবাসী-অভিবাসীদের চোখ নতুন সরকারের দিকে

৪ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যাচ্ছে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচন। রাষ্ট্রপতি, অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, সিনেটর এবং জাতীয় কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে দেশের প্রায় ১৬ কোটি ভোটার নিজেদের রায় প্রদান করবেন। নির্বাচন ঘিরে পুরো ব্রাজিলে রাজনৈতিক উত্তাপ বিরাজ করছে।
নির্বাচনী জরিপ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট পদের মূল লড়াইয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তবে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, লিবারেল পার্টির সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারোও অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। পাশাপাশি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আগস্টো সুরি , রোনালডো কাইয়াদো এবং রেনান সান্তোসের মতো অন্য প্রার্থীরা। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের ঝোঁক যেভাবে সামান্য ব্যবধানে বিভক্ত, তাতে প্রথম দফায় নিষ্পত্তি না হয়ে ভোট দ্বিতীয় দফায় গড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল।
ডাটাফোলহা-এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, লুলার পক্ষে সমর্থন রয়েছে ৪২ শতাংশ এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল পার্টির সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারোর পক্ষে রয়েছে ৩৮ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন যদি দ্বিতীয় দফায় গড়ায়, তবে ব্যবধান এতটাই কম হবে যে ফলাফল যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে।
রাজনৈতিক এই দ্বিমুখী টানটান উত্তেজনার বাইরেও এবারের নির্বাচনে একটি বিশেষ নজর কাড়ছে ব্রাজিলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর। খুচরা ব্যবসা, টেক্সটাইল এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল শিল্পে ব্রাজিলের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় অবদান রাখা প্রবাসীরা এখন নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণের দিকে তাকিয়ে আছেন। বিশেষ করে রেসিডেন্সি নবায়ন ও বাণিজ্যিক নিবন্ধনের মতো জটিল আমলাতান্ত্রিক ধাপগুলো সহজীকরণ, অভিবাসী শ্রমিকদের আইনি ও শ্রম সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রত্যাশায় তাঁরা আগামীকালকের এই ব্যালট পোলিংয়ের ফলাফলের দিকে প্রখর চোখ রাখছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় দেশীয় রাজনীতি ও অর্থনীতির সংকটগুলো গুরুত্ব পেলেও প্রবাসীদের প্রধান নজর নতুন সরকারের অভিবাসন নীতি, আইনি সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক সহায়তার দিকে। ব্রাজিলের অর্থনীতিতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক, খুচরা ব্যবসা, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ (হালাল গোশত রপ্তানি) খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বহু বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।
নির্বাচন নিয়ে সান্তা কাতারিনা অঙ্গরাজ্যের এক প্রবাসী ব্যবসায়ী জানান, আমরা যারা ব্রাজিলে ব্যবসা পরিচালনা করছি বা কারখানায় কাজ করছি, আমাদের সবচেয়ে বড় বাধা আমলাতন্ত্র। ব্যবসার অনুমতি, ট্যাক্স ফাইল অনুমোদন ও কাগজপত্র নবায়ন প্রক্রিয়া যদি পরবর্তী সরকার আরও সহজ ও আধুনিক করে, তবে ব্যবসার প্রসার ঘটানো সহজ হতো।
রিও গ্রান্দে দো সোল অঙ্গরাজ্যে কর্মরত এক অভিবাসী শ্রমিকের মতে, সরকার যে পক্ষেরই আসুক, নতুন প্রশাসনের কাছে আমাদের মূল প্রত্যাশা থাকবে অভিবাসী শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা, কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা।
একই সাথে, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকার কী পদক্ষেপ নেয়- সেদিকেও কড়া নজর রাখছেন স্থানীয় নাগরিক এবং প্রবাসীরা।
অন্যদিকে, স্থানীয় ব্রাজিলিয়ান নাগরিকদের মধ্যেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সাও পাওলোর এক স্থানীয় নাগরিকের মতে, দেশের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকার কী পদক্ষেপ নেবে-সেটাই এখন দেখার বিষয়।



