ইরানকে ‘সহজ বা কঠিন’ যেকোনো পথে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

হোয়াইট হাউজের বাইরে ট্রাম্প। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘সহজ বা কঠিন’ যেকোনো পথে এগোবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে তার সরকার।
স্থানীয় সময় শনিবার হোয়াইট হাউজের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ অবস্থায় রয়েছে। এখন দেশটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা।
তিনি বলেছেন, ‘ইরানের বিষয়ে আমাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরান ধ্বংসপ্রাপ্ত। তাই একমাত্র প্রশ্ন হলো, এটি সহজ পথে হবে, নাকি কঠিন পথে।’
তবে ‘সহজ’ বা ‘কঠিন’ পথ বলতে কী বোঝাচ্ছেন, তা ব্যাখ্যা করেননি ট্রাম্প। সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সময়সীমাও জানাননি।
শুক্রবারও ইরান নিয়ে একই ধরনের অস্পষ্ট মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। তখন নিজের কৌশল প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি।
টেক্সাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হবে। যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দামও দ্রুত কমবে বলে তিনি দাবি করেছেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরানে মূল্যস্ফীতি ৩০১ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশটির অর্থ ও কার্যকর মুদ্রা নেই এবং সামরিক বাহিনীও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এসব দাবির স্বাধীন যাচাই করা যায়নি।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের ওপর বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় তার সরকার নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে।
শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘এই বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার নতুন একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’
পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, ইরানের প্রতিপক্ষরা দেশটির ‘জীবনধারণের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো’ বন্ধ করে জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।
তিনি স্বীকার করেছেন, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে। তবে জনগণের সমর্থন ও সরকারের পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ও নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে।
আগস্টে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে ইরানবিরোধী একটি অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করে। এটিকে ইরান ও দেশটির কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ইরান সরকার ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের অর্থের উৎস বন্ধ করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। ইরানের তেল পাচার, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ও মধ্যস্থতাকারী চিহ্নিত করার কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
এই চাপ ইরানের বিমান চলাচল খাতেও পড়েছে। গত মাসে ইরানের আরও কয়েকটি বিমান সংস্থা ও দেশের বাইরে থাকা কিছু কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে সহায়তা অব্যাহত রাখলে বিদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সেবা প্রদানকারীরাও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বছরের পর বছর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন উড়োজাহাজ, খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতা জ্বালানি, জাহাজ চলাচল, প্রযুক্তি, স্বর্ণ ও ডিজিটাল সম্পদ খাতেও বিস্তৃত হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প এখনো ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা স্পষ্ট করেননি। পেজেশকিয়ানও অর্থনীতিকে রক্ষায় নতুন কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত জানাননি।
সূত্র : আল জাজিরা




