আবারও গরুর মাংস আমদানির দাবি, আগে কেন আটকে গিয়েছিল

সংগৃহীত ছবি
আবারও গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি উঠেছে। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি তুলেছে এ দাবি। দীর্ঘদিন ধরে যদিও বন্ধ রয়েছে এ আমিষের আমদানি।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলেছেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চরম সংকটে থাকা রেস্তোরাঁ খাতের সংকট নিরসনের দাবিতে আয়োজন করা হয় এ সংবাদ সম্মেলন।
বর্তমানে বাজারে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে ৮০০ টাকার মাংসে থাকে কিছু হাড় ও চর্বি।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির দাবি, এ দামে রেস্তোরাঁগুলোর জন্য নিয়মিত ও মানসম্মত গরুর মাংস সংগ্রহ করা হয়ে পড়েছে কঠিন। পাশাপাশি সরবরাহের পরিমাণও কম চাহিদার তুলনায়।
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ইমরান হাসান। বললেন, রেস্তোরাঁয় খাবারের অন্যতম প্রধান উপকরণ গরুর মাংস। কিন্তু এর দাম বেশি হওয়ায় রেস্তোরাঁগুলোকে বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে।
‘খাবারের দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেক রেস্তোরাঁ বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয় করতে পারছে না’, অভিযোগ ইমরানের।
কম দামের মাংসে বেশি চর্বি-হাড়
বাজারে এখন বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। সেখানে সর্বনিম্ন দাম প্রায় ৮০০ টাকা। এ টাকার মাংসে হাড়-চর্বিই বেশি থাকে বলে অভিযোগ।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিবের ভাষ্য, বাজারে ৮০০ টাকা কেজি দরের গরুর মাংসে হাড়, চর্বির পরিমাণ বেশি থাকছে।
‘এতে প্রকৃত মাংসের পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং রেস্তোরাঁগুলোর ব্যয় আরও বাড়ছে’, যোগ করেন ইমরান।
‘বেড়েছে গবাদিপশু পালনের ব্যয়’
গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ইমরান বললেন, দেশে প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক কৃষক আগে কয়েকটি করে গরু পালন করতেন। কিন্তু গোখাদ্যের দাম এবং গবাদিপশু পালনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তৈরি হচ্ছে সংকট।
এ সংকট থেকে মুক্তির জন্য সীমিত পরিসরে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি চাইছে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংগঠনটি মনে করে, নির্দিষ্ট নীতিমালা ও কঠোর তদারকির আওতায় সীমিত পরিসরে গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে বাজারে সরবরাহ বাড়তে পারে। এতে দামের ওপরও চাপ কমতে পারে বলে মনে করে সংগঠনটি।
কম টাকায় গরুর মাংস সংগ্রহ করা গেলে সুবিধা পাবে রেস্তোরাঁগুলো, এমনটাই মনে করেন ইমরান।জানালেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক কম দামে গরুর মাংস সংগ্রহের সুযোগ থাকলে রেস্তোরাঁগুলো কম দামে গ্রাহকদের খাবার পরিবেশন করতে পারবে।
‘পাঁচ তারকা হোটেল ও কিছু বিশেষায়িত রেস্তোরাঁ বিদেশ থেকে গরুর মাংস আমদানি করে; তাই রেস্তোরাঁ খাতের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নির্দিষ্ট শর্তে আমদানির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে’, যোগ করেন তিনি।
গরুর মাংস আমদানির দাবি নতুন নয়
গরুর মাংস আমদানির দাবি উঠেছিল আগেও। দেশের বাজারে এ আমিষের দাম বাড়লেই ওঠে এ দাবি। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির পাশাপাশি বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতিও অতীতে এ দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু এতে আপত্তি রয়েছে খামারিদের।
খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ)। পূর্বে গরুর মাংস আমদানির দাবি ওঠার পর আপত্তি জানিয়ে এই সংগঠন বলেছিল, দেশে গরুর সংকট নেই। সরকারি তথ্য-উপাত্ত থেকেও একই বিষয় জানা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমদানির বিষয়টি যদি গরুর দামকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে, তাহলে সরকার স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় বিকল্প চিন্তা করতে পারে।
কম দামে মাংস দিতে চেয়েছিল ব্রাজিল
ঢাকায় দুই বছর আগে যখন দাম ৮০০ টাকা ছুঁইছুঁই করছিল তখন সস্তায় মাংস দিতে চেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা দেখেনি আলোর মুখ।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কেজিপ্রতি গরুর মাংসের জন্য ব্রাজিলের চাওয়া দাম ছিল চার ডলার (প্রায় ৫০০ টাকা)।
এ পরিকল্পনা কেন ভেস্তে গিয়েছিল সে বিষয়ে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে একটি ব্যাখ্যা দেন ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস। তিনি বলেছিলেন, অনেক সস্তায় বাংলাদেশে গরুর মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রয়োজনীয় সনদ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত গরুর মাংস রপ্তানি করতে পারেনি ব্রাজিল।
গরুর মাংস আমদানি বন্ধ কবে থেকে
২০১২ সালের পর থেকে ভারত বাংলাদেশে গরু রপ্তানির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে এবং পরে একপর্যায়ে গরু আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
এক দশক পর ২০২২ সালের এপ্রিলে জারি হওয়া আমদানি নীতি আদেশে প্রথমবারের মতো গরু, ছাগল ও মুরগির মাংস ও মানুষের খাওয়ার উপযোগী অন্য পশুর মাংস আমদানির ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতির বিধান আসে।
এরপর থেকে বিশেষ কারণ ছাড়া মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় না বলেই জানিয়েছে অধিদপ্তর।
ফলে বাংলাদেশের বাজারে বেড়ে যায় গরুর মাংসের দাম। দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আমদানির পথ খুলতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জানানো হয় দাবি। কিন্তু সে পথ খোলেনি।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নতুন এ দাবির পরও গরুর মাংস আমদানির পথ খুলবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।



