‘আপনিই সব’- ট্রাম্পকে লেখা চিঠিতে ন্যাটালি হার্পের আবেগঘন বার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ন্যাটালি হার্প। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ন্যাটালি হার্প তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা অন্তত দুটি চিঠিতে নিজের গভীর আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার চিঠি দুটি প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি বিস্ট।
ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার মধ্যেই চিঠিগুলো প্রকাশ্যে এলো।
একটি চিঠিতে হার্প লিখেছেন, ‘আমি চাই, আমাদের সম্পর্ক সবসময় ভালো থাকুক।’
টাইপ করে চিঠিটির শেষে রয়েছে হার্পের স্বাক্ষর। ‘প্রিয় প্রেসিডেন্ট’ সম্বোধন করে লেখা চিঠি হার্প শেষে করেছেন এই লিখে- ‘আমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে, ন্যাটালি।’
২০২৩ সালে লেখা ওই চিঠির একাংশে হার্প আরও লিখেছেন, ‘আমি কখনোই আপনার জন্য আনন্দ ছাড়া অন্যকিছু বয়ে আনতে চাই না। আমি দুঃখিত, আমি আমার মনোযোগ হারিয়েছিলাম। আমার কাছে আপনিই সবকিছু। আমি কখনোই আপনাকে হতাশ করতে চাই না। এই জীবনে আমার অভিভাবক ও রক্ষাকর্তা হওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’
আরেক চিঠিতে ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের আগের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেছেন হার্প। তখন তিনি সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন।
হার্প লিখেছেন, ‘টক শোয়ের সময় আপনি ফোন করতেন। আমরা সবকিছু নিয়ে কথা বলতাম, আবার কিছু না নিয়েও কথা বলতাম। সেই বোঝাপড়ায় আমি ফিরে যেতে চাই। আমাদের সবসময় শুধু কাজ নিয়েই কথা বলতে হবে, এমন তো নয়!’
ওই চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি যখন ভুল করি, দয়া করে আমাকে বলবেন। প্রয়োজন হলে আমাকে বকাঝকা করার পূর্ণ অধিকার আপনার আছে। কারণ, আমার মতো করে কেউ আমাকে জানে না বা আমার বিষয়ে এতটাও আপনার মতো কেউ ভাবে না।’
তবে ২০২৩ সালে হার্পই চিঠিগুলো ট্রাম্পকে লিখেছিলেন বা পাঠিয়েছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সিএনএন।
ডেইলি বিস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে বই লেখার সময় লেখক মাইকেল উলফ চিঠিগুলো পেয়েছিলেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নিয়ে চলমান আলোচনা শুরু হয় এ সপ্তাহে। জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ ট্রাম্পের সমালোচনা করতে গিয়ে হার্পের নাম উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের সঙ্গে কাতারের আমিরের দেওয়া একটি বিমানে তার ভ্রমণ নিয়েও তিনি কটাক্ষ করেন।
জুলাইয়ে ইরানের হুমকির কারণে ট্রাম্প তুরস্ক থেকে গোপনে একটি ছোট বিমানে করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় হার্পও তার সঙ্গে ছিলেন। খুব অল্প কয়েকজন সহযোগীকে ওই বিমানে নেওয়া হয়েছিল।
হার্পের পক্ষ নিয়ে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ডেভিস ইংল বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের দলের ‘অন্যতম বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী সহযোগী’।
তবে হোয়াইট হাউজের কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন, হার্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক তীব্র সমালোচনার কারণে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে থেকে সাউথ ক্যারোলাইনার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় হার্পকে অন্য সহযোগীদের সঙ্গে মেরিন ওয়ান বিমানে উঠতে দেখা যায়। ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায় সব জায়গাতেই সম্প্রতি হার্পকে দেখা যাচ্ছে। তাই তার এই সফরে থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে এ সপ্তাহে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরুর পর এটাই ছিল ট্রাম্পের প্রথম সফর।
ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতার আরও একটি ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে নিউ ইয়র্কে আদালতে হাজিরার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে যেতে গাড়িতে জায়গা না থাকায় তিনি গাড়ির পেছনের মালপত্র রাখার অংশে বসেছিলেন। হার্পের দাবি ছিল, ট্রাম্প নিজেই তাকে সঙ্গে যেতে বলেছিলেন। তাই তিনি কোনোভাবেই বাদ পড়তে চাননি।
ট্রাম্পের চারপাশে প্রায় সব সময়ই হার্পকে দেখা যায়। তার দায়িত্বও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ট্রাম্পের বৈঠকে থাকেন এবং দিনের বড় সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
রাত গভীর পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়েও কথা বলেন হার্প। বিদেশি নেতারা ট্রাম্পের কাছে বার্তা পৌঁছাতে তার মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। টেলিভিশনে ট্রাম্প যাদের দেখেন, তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করার দায়িত্ব অনেক সময় হার্পের ওপর থাকে।
ট্রাম্প সরাসরি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না চাইলে অনেক সময় হার্পকে দিয়ে তার কাছে বার্তা পাঠান।
কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের প্রতি হার্পের সম্পূর্ণ আনুগত্যই তাদের কাজের সম্পর্ককে এত কার্যকর করেছে। তবে তার কাজের ধরন নিয়ে ট্রাম্পের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা বেশ বিরক্ত। তাকে প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত থেকে দূরে রাখার চেষ্টাও হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার সঙ্গে কাজ শুরু করেছিলেন সাবেক এই টেলিভিশন উপস্থাপক। হার্প বলেছেন, ট্রাম্প তার জীবন বাঁচিয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি প্রেসিডেন্ট ও বাইরের বিশ্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে ওঠেন।
তিনি ট্রাম্পের মিত্রদের বার্তা পৌঁছে দেন, বৈঠকের ব্যবস্থা করেন, ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়ার পোস্ট টাইপ করেন এবং ট্রাম্পের প্রশংসা করে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের কপি তার কাছে পৌঁছে দেন। দিনের প্রায় সব সময়ই তিনি ট্রাম্পের কাছাকাছি থাকেন।
এ কারণে হার্পকে অনেকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বা ‘মানব প্রিন্টার’ নামে ডাকেন। ২০২৩ সালে লেখা একটি চিঠিতে তিনিও এই পরিচয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ট্রাম্প তাকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ হিসেবে কাজ থেকে বিরতি নিতে বাধ্য করেছিলেন।
হার্প লিখেছেন, ‘আমাকে হিউম্যান প্রিন্টার হতে হয়নি। আমি ভালো কথাবার্তা উপভোগ করার সময় পেয়েছি। এরপরও দিনের শেষে আমার সব কাজ শেষ করতে পেরেছি। এমনকি সকালে ও সন্ধ্যায় দীর্ঘ সময় হাঁটতে পেরেছি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তও উপভোগ করেছি। যদিও খাওয়া ও ঘুমানোর কথা ভুলেই গিয়েছিলাম।’
সূত্র : সিএনএন












