বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প, দাবি ইরানের

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ নামে কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের নীতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আওতায় তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা সব দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, এই হুমকি বিশ্বের সব দেশের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণার’ শামিল। তিনি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি বাকাইয়ের এসব মন্তব্য প্রকাশ করেছে।
গত বুধবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান চুক্তির সুযোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন দেশটির বিরুদ্ধে ‘নজিরবিহীন মাত্রায় অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা’ তৈরি করা হবে।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যেকোনো দেশ যদি তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা দেয়, তাহলে সেই দেশও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়বে।’
ইরানের তেল পাচার, অর্থ লেনদেন, বিনিময় ব্যবস্থা, জাহাজ নিবন্ধন ও বিভিন্ন নামে পরিচালিত কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা— সব বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘এটি হবে অর্থনৈতিক ডি-ডে।’ এক্ষেত্রে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের পাশে থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
ডি-ডে শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে ১৯৪৪ সালের ৬ জুন নরম্যান্ডিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিত্রবাহিনীর বড় সামরিক অভিযান শুরুর দিনকে বোঝায়। অর্থাৎ, কোনো বড় ও নির্ণায়ক অভিযান শুরুর দিন।
ট্রাম্পের জবাবে বাকাই বলেছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা জাতিসংঘের স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইন ও ক্ষমতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
তিনি বলেছেন, কোনো সরকারেরই অধিকার নেই অন্য দেশের ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান বা বিমানবন্দরকে তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে বাধ্য করার।
তার দাবি, আন্তর্জাতিক আইনে এ ধরনের ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার’ কোনো ভিত্তি নেই। এসব নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘ সনদের সার্বভৌম সমতার মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে।
এ মুখপাত্র আরও বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে নৌ অবরোধ যুক্ত হলে অন্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বও অন্য একটি শক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
তিনি অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগকে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ও অন্যায় কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন।
তার ভাষ্য, ট্রাম্পের এই ভয় দেখানোর কাছে নতি স্বীকার করলে দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বের ‘সম্পূর্ণ অবক্ষয়’ ঘটবে। একই সঙ্গে এটি হবে ‘প্রকাশ্য ও পূর্ণাঙ্গ উপনিবেশবাদের দিকে বিপজ্জনক প্রত্যাবর্তন’।
সূত্র : আল জাজিরা







