আলোচনা ব্যর্থ, কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসালেন ট্রাম্প

ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ফাইল ছবি /রয়টার্স
ওয়াশিংটনে তিন দিন আলোচনা করেও বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এর জেরে কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হয়। এর আগেই দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়ে দেন, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের সমপরিমাণ শুল্ক কানাডাও আরোপ করবে।
এক বিবৃতিতে কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো একটি বাণিজ্য চুক্তির দিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছিল। তবে কানাডার লক্ষ্য পূরণের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব সামলাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শ্রমিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন সহায়তা কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তি না হওয়ার জন্য কানাডাকে দায়ী করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদার হওয়ার একটি সুযোগ হারিয়েছে কানাডা।’
গ্রিয়ার আরও বলেছেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যে শর্তে সমঝোতা হয়েছিল, কানাডা তা চূড়ান্ত করতে রাজি হয়নি। নতুন কিছু দাবি এবং আগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসায় দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হওয়া সমঝোতা নষ্ট হয়েছে।
নতুন শুল্ক কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া মোট রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ পণ্যে কার্যকর হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক পণ্য, শিল্প সরঞ্জাম ও দুগ্ধজাত পণ্য। এর বাইরে ইস্পাত, কাঠ ও গাড়ির ওপর আগে থেকেই মার্কিন শুল্ক রয়েছে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছর কানাডার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পণ্যে শুল্ক আরোপ করেন। এর জবাবে কানাডাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করে।
এর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে শুল্ক নিয়ে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ চলছে। ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে কানাডার ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন।
জুলাইয়ে ট্রাম্প কানাডার পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। তিনি কানাডার বিরুদ্ধে মার্কিন পণ্যের সঙ্গে ‘বৈষম্যমূলক আচরণের’ অভিযোগ তুলেছিলেন।
তবে শুক্রবারও ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, কানাডার সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত আপাতত সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি।
নতুন শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিকারী অনেক কানাডীয় ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ জুলিয়ান কারাগুসিয়ান বলেছেন, ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে শত শত কানাডীয় পণ্যের দাম মার্কিন বাজারে এত বেড়ে যাবে যে সেগুলোর বিক্রি কঠিন হয়ে পড়বে।
সূত্র : আল জাজিরা







