যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ধাক্কা শেয়ারবাজারে, ট্রিলিয়ন ডলার হাওয়া

ছবি: রয়টার্স
হাওয়া হয়ে যাচ্ছে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার। এ ঘটনা ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল হেরে যাওয়ার পর থেকে। যুক্তরাষ্ট্র বা এশিয়ার শেয়ারবাজার—সবখানেই পরিস্থিতি একই। কারণ একটাই, ভয়। মনে করা হচ্ছে, রিপাবলিকানদের হারে কমে যেতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দুর্দান্ত গতি।
তবে সব শেয়ারের মূল্যের পতন ঘটছে বিষয়টি এমন নয়। মূলত দর হারাচ্ছে প্রযুক্তি ও এআই খাতের কোম্পানিগুলো। এর কারণ হচ্ছে, ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনী প্রচারের সময়ই জানিয়েছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যে গতিতে এগোচ্ছে টেনে ধরা হবে তার লাগাম।
ডাউ জোন্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি-নির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ৫.৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে। এর ফলে বাজারমূল্য থেকে হাওয়া হয়ে গেছে প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্য প্রধান শেয়ার সূচকগুলোতেও ঘটেছে বড় ধরনের দরপতন।
এআইয়ে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তা আদৌ লাভজনক হবে কি না— এমন আতঙ্কে ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা। এই আতঙ্ক থেকেই তারা ছেড়ে দিচ্ছেন শেয়ার।
আজ শুক্রবার সকালে এশিয়ার বাজারেও প্রযুক্তি-নির্ভর সূচকগুলোতে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে।
বিশেষ করে, এআই প্রযুক্তির চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত কম্পিউটার চিপ ও অন্য সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক লেনদেনের শুরুর দিকেই ৬ শতাংশ কমে যায়। এর মধ্যে মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিওক্সিয়ার শেয়ারের দর ১২.৬ শতাংশেরও বেশি এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ারের দর কমেছে ৯.৫ শতাংশ।
দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের শেয়ার দর ১১.৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে। আর স্যামসাংয়ের শেয়ার দর কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ।
সিউলের বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপে কোস্পি সূচক ৮.৫ শতাংশেরও বেশি পড়ে যায়। এর ফলে সেখানে ‘সার্কিট ব্রেকার’ কার্যকর হয়। এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা রোধে সাময়িকভাবে লেনদেন স্থগিত করে দেয়।
তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক কমেছে ৮. ৩ শতাংশেরও বেশি। এর মধ্যে চিপ নির্মাতা জায়ান্ট টিএসএমসির শেয়ার দর প্রায় ৮.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্বখ্যাত স্টক মার্কেট ডেটা বিশ্লেষণ সংক্রান্ত ওয়েবসাইট মার্কেটওয়াচের চিপ বিশ্লেষক ব্রিটনি এনগুয়েন। তিনি বললেন, এটি এআই অবকাঠামোতে বিনিয়োগের মাত্রা নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগেরই একটি ধারাবাহিকতা।
এআই নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের কী চাওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষে জিতেছেন ডেমোক্র্যাটরা। যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ভোটারদের মন জিতলেন এরমধ্যে এআইয়ে প্রসার ধীর করার কথাও ছিল। আরও ছিল ডেটা সেন্টারের বিস্তার রোধের কথা। এখন ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকলেও সবকিছুতে নিয়ন্ত্রণ থাকবে ডেমোক্র্যাটদের। ফলে, এআইয়ের বিস্তার রোধে উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে তাদের জন্য।
টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের জিনা হিনোজোসা। ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে জোরালো প্রচার চালিয়েছেন তিনি। এই খাতে নতুন স্থাপনা নির্মাণের ওপর স্থগিতাদেশ আরোপের প্রতিশ্রুতিও তিনি দিয়েছেন।
এআইয়ের বিরুদ্ধে এমন প্রচারের কারণ সম্পর্কে কিছু ডেমোক্র্যাটের যুক্তি, কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা বা তদারকি ছাড়াই অত্যধিক মাত্রায় বিস্তার লাভ করেছে এআই। তারা কংগ্রেসের নতুন ক্ষমতা ব্যবহার করে এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ডেমোক্র্যাট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও জানিয়েছেন, তিনি চান না নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ হোক। লিখেছেন, ‘বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নীতিনির্ধারকরা পরিবেশ ধ্বংস করুক তা আমেরিকানরা চায় না। তারা কর্মসংস্থান কমিয়ে দিক এবং মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াক এটিও চায় না আমেরিকানরা।’
‘অবিলম্বে জাতীয় পর্যায়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণের ওপর স্থগিতাদেশ চাই’, দাবি জানান ডেমোক্র্যাট এ সিনেটর।
সূত্র: বিবিসি




