ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে না, নেই বৈঠকের সময়সূচিও : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প- রয়টার্স
যুদ্ধ থামানোর আলোচনা যখন হওয়ার কথা, তখনই দুই পক্ষের ভিন্ন কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনাই চলছে না এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিও ‘খোলা ও সচল’। অন্যদিকে তেহরানের বার্তা একেবারে উল্টো। যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে না। শান্তির সম্ভাবনার মাঝেই দুই পক্ষের এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থানে ফের অনিশ্চয়তায় পড়েছে যুদ্ধ অবসানের উদ্যোগ।
ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আলোচনা বা বৈঠক হচ্ছে না এবং এমন কোনো বৈঠকের সময়সূচিও নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বললেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা কথোপকথন চলছে না, এমনকি কোনো আলোচনাও নির্ধারিত হয়নি। নৌ-অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। হরমুজ প্রণালি খোলা ও চালু রয়েছে। সব নৌ-মাইন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা বিস্ফোরিত করা হয়েছে।’
এদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ মঙ্গলবার বলেছেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তির শর্তগুলো ওয়াশিংটন পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
তিনি পার্লামেন্টে বলেছেন, এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, তেহরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং সব ফ্রন্টে হুমকি ও সামরিক অভিযান বন্ধ করা।
এর এক দিন আগে সোমবার ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আলোচনা এখনো চলছে।
ফক্স নিউজকে কুশনার বলছিলেন, ‘আমি এর বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে আমি বলতে পারি, মার্কিন সরকার ও ইরান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে কথোপকথন সম্ভবত আগে যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি জোরালো।’
শান্তি আলোচনা এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরুর ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছিল, তা এখন থমকে গেছে। এতে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, সেটি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে সোমবার জিজ্ঞেস করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জুনের অন্তর্বর্তী চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে চাইছে কি না। ট্রাম্পের উত্তর ছিল, ‘না’।







