ট্রাম্পের মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার নিচে ৩৭ দেশ, বিতর্ক

সংগৃহীত ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন একটি মানচিত্র ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মানচিত্রটি প্রকাশ করেন তিনি।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার নিচে কানাডা, মেক্সিকো, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, কিউবা, জ্যামাইকা, গুয়াতেমালাসহ উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দেখানো হয়েছে। সব মিলিয়ে মানচিত্রে ৩৭টি দেশ ও অঞ্চল ঢাকা পড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মানচিত্রের ওপর লেখা রয়েছে ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’। তবে এর সঙ্গে কোনো ব্যাখ্যা বা নীতিগত ঘোষণা দেননি ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসও এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ভূখণ্ড সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হিসেবে ঘোষণা করেনি।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি কেবল ট্রাম্পের রাজনৈতিক বার্তা? নাকি তার সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক বক্তব্যেরই আরেকটি প্রকাশ?
ট্রাম্প এর আগে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার কথা বলেছেন। গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রহও তিনি একাধিকবার জানিয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দাভোসে দেওয়া বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে গ্রিনল্যান্ড নেওয়ার বিষয়ে পরে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই এগোতে চান।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান ইউরোপে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ২০ কোটি ইউরোর বিনিয়োগ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। আগামী দুই বছরে এই অর্থ অবকাঠামো, জ্বালানি, পর্যটন, শিক্ষা, মৎস্য ও আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এবারের মানচিত্রে আইসল্যান্ডের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এর আগে ট্রাম্পের মানচিত্র ও বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ড ও কানাডার প্রসঙ্গ থাকলেও আইসল্যান্ডকে এভাবে যুক্ত করার ঘটনা নতুন। মানচিত্র প্রকাশের পর আইসল্যান্ড মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
এর আগে ট্রাম্পের মনোনীত আইসল্যান্ডে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিলি লং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫২তম অঙ্গরাজ্য’ করার কথা মজা করে বলেছিলেন। পরে তিনি এ মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এটি গুরুতর কোনো কথা ছিল না।
কানাডা ও মেক্সিকোও ট্রাম্পের ভূখণ্ড সম্প্রসারণের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, তার দেশ বিক্রির জন্য নয়। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমও বলেছেন, তার দেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম।
ভূখণ্ডের পাশাপাশি ভৌগোলিক নাম নিয়েও ট্রাম্পের নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। তিনি ‘গালফ অব মেক্সিকো’র বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নাম ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি নিউ মেক্সিকোর নাম ‘নিউ আমেরিকা’ করার ইঙ্গিত দিয়েও একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। তবে কোনো প্রেসিডেন্ট এককভাবে একটি অঙ্গরাজ্যের নাম বদলাতে পারেন না। এ জন্য আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশামও এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্যটির নাম পরিবর্তনের কোনো প্রশ্নই নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সর্বশেষ মানচিত্রকে এখনই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা বলা যাবে না। কারণ এর সঙ্গে কোনো সরকারি নীতিপত্র বা ঘোষণা নেই।
তবে মানচিত্রটি পুরোপুরি উপেক্ষা করার সুযোগও নেই বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও অন্যান্য প্রতিবেশী অঞ্চল নিয়ে ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে বিতর্কিত বক্তব্য দিচ্ছেন।
তাই মানচিত্রটি হয়তো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা নয়। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক বার্তায় এটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কতটা বিস্তৃত করতে চান তিনি।





