তাইওয়ানের প্রসঙ্গ তুলে শিকেই ‘মার্কিন অস্ত্র কেনার প্রস্তাব’ ট্রাম্পের

২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল আর্কাইভস মিউজিয়ামের বাইরে আলাপচারিতায় মগ্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং তার স্ত্রী পেং লিউয়ান— রয়টার্স
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠকে তাইওয়ানের জন্য আটকে থাকা মার্কিন অস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি হালকা করে তুলে ধরে একপর্যায়ে শিকেই জিজ্ঞেস করেছিলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না। চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউর এমন বক্তব্যের পর ট্রাম্পের চীন নীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। একই সময়ে সামনে এসেছে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধও।
ডেভিড পারডিউ বলেছেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির সম্ভাবনার কথা তুলেছিলেন। এমন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে চীন ও তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক প্রজন্মের নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে এবং মার্কিন প্রযুক্তি সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের হাতে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ওয়াশিংটনে ট্রাম্প শিকে রাষ্ট্রীয় সফরে আতিথ্য দেওয়ার কয়েক দিন পর ‘ফক্স নিউজ সানডে’ অনুষ্ঠানে শ্যানন ব্রিমের সঙ্গে কথা বলার সময় পারডিউ এসব জানান। তবে প্রস্তাবটি কখন দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি নির্দিষ্ট করেননি।
ব্রিম স্বশাসিত গণতান্ত্রিক তাইওয়ানের জন্য বিলম্বিত সহায়তা প্যাকেজ ও অস্ত্রের অর্ডার নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন। চীনের হুমকি থেকে দ্বীপটিকে রক্ষায় এসব অস্ত্র প্রয়োজন। গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা চীনের প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে অস্ত্র দেওয়া থেকে বিরত রাখছে কি না, তা জানতে চান ব্রিম।
পারডিউ এ ধারণা নাকচ করে বলেন, ট্রাম্পকে ‘তাইওয়ানের বিষয়ে যতটা শক্ত অবস্থানে দেখেছি, আর কাউকে ততটা দেখিনি’। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প তাইওয়ানকে প্রচুর অস্ত্র বিক্রি করেছেন। পারডিউ জানান, ভবিষ্যতে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়েও ট্রাম্প ও শির মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব আইনের আওতায় তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তাইওয়ানকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও দ্বীপটির সবচেয়ে শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র। তবে চীন তাইওয়ানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রের প্রতিরক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে একাধিক মার্কিন নেতা স্পষ্ট অবস্থান নেননি।
ওয়াশিংটনের কাছে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে চীন। মে মাসে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শির আগের এক শীর্ষ বৈঠকের সময় বিষয়টি বিশেষ জোরালোভাবে তোলা হয়েছিল। ওই বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র রেকর্ড ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ স্থগিত করে। ট্রাম্প তখন চীনের সঙ্গে আলোচনায় তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিকে ‘খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে শি তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
বেইজিংয়ে সোমবার এ বিষয়ে পারডিউয়ের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন তা নিশ্চিত করেননি। তবে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, চীন সবসময় নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করে আসছে এবং বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস




