কমিউনিজমের উত্থান যুক্তরাষ্ট্রে আতঙ্কে ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
কমিউনিজমকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য ‘প্রাণঘাতী হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বললেন, দেশের প্রতিষ্ঠাতারা যে স্বাধীনতার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, তা রক্ষায় আমেরিকানদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ইতিহাসে এ যাবৎকালের ‘সবচেয়ে ব্যতিক্রমী এবং মহান জাতি’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন। গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের আগে শুক্রবার রাতে তিনি সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোর জাতীয় স্মৃতিসৌধে এক ভাষণে এ কথা বললেন। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তার ভাষণের মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে, বর্তমানে দেশটি তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মুখোমুখি।
রাশমোর জাতীয় স্মৃতিসৌধে চারজন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশাল ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, নেতৃত্ব এবং ব্যতিক্রমী অর্জনের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, কমিউনিস্ট আদর্শ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি— প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, পার্ল হারবার, এমনকি ৯/১১-এর চেয়েও বড়। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হবে না এবং সেই পথে যেতে দেওয়া হবে না দেশকে।
ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয় আবারও আক্রমণের মুখে পড়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ ‘উগ্রপন্থি’ ও ‘চরমপন্থিদের’ সমালোচনা করে তিনি বললেন, ‘আমাদের দেশে আবারও কমিউনিস্ট হুমকির পুনরুত্থান ঘটছে।’ সাম্প্রতিক সময়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও সরকারবিরোধী অংশের প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রাইমারি নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প এ ধরনের বক্তব্য জোরালোভাবে তুলে ধরছেন।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বামপন্থীদের উত্থানকে ‘কমিউনিস্টদের অগ্রযাত্রা’ হিসেবে বর্ণনা করে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি বলে দাবি করেন। শুক্রবারের ভাষণে ট্রাম্প বললেন, ‘গত কয়েক বছরে আমাদের ভেতর থেকে আমেরিকান চেতনাকে দুর্বল করে দেওয়ার এবং আমাদের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হয়েছে।’
ভাষণকালে ট্রাম্প মার্কিন সামরিক শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দাবি করেন, অতীতে দুই বিশ্বযুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার শত্রুদের ইতিহাসের অতল গহ্বরে পাঠিয়েছে। ইরান ও ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, তেহরান বর্তমানে সমঝোতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থী আদর্শ দেশের ভেতরে ঢুকে পড়ছে এবং নবাগত অভিবাসীর একটি বড় অংশ এই ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিয়ে ভিন্নমতও দেখা দিয়েছে। এবারের স্বাধীনতা দিবস এমন এক সময় উদযাপিত হচ্ছে, যখন ভয়াবহ তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৬ কোটি মানুষ বড় ধরনের বা তীব্র তাপ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশের বিভিন্ন শহর ও জনপদে আয়োজিত প্যারেড, ব্লক পার্টি এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান ব্যাহত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় অনুষ্ঠান বাতিল বা সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।




