সংকটের শিকড় ও সমাধান

সংগৃহীত ছবি
ডেঙ্গুর বিস্তারের পেছনে রয়েছে একাধিক আন্তঃসম্পর্কিত কারণ। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র ও ছাদের টবে জমে থাকা পানি এডিস মশার আদর্শ প্রজননস্থল হয়ে ওঠে। সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, যা মশার প্রজনন মৌসুমকে দীর্ঘায়িত করছে। সবচেয়ে বড় কথা, জনসচেতনতার ঘাটতি, নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের উদাসীনতা এই সংকটে প্রতিবছর নতুন মাত্রা যোগ করে।
ডেঙ্গু মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। সরকার ও সিটি করপোরেশনকে বছরব্যাপী পরিকল্পিত মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণে মনোযোগী হতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ ও তথ্য প্রচার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, আর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব— নিজের বাড়ি, ছাদ ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া। একই সঙ্গে মানুষ যাতে আতঙ্কিত না হয়, সেদিকে গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। যতদিন না আমরা প্রতিরোধমূলক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারব, ততদিন প্রতি বর্ষায় এই সংকট ফিরে আসবেই।
লেখক: শিক্ষার্থী, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা




