ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব দেওয়ার কথা অস্বীকার ট্রাম্পের

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড়ের বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা অর্থ ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানকে ‘কিছুই প্রস্তাব করেননি’।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং ইসরায়েলের চ্যানেল ১২–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইরানের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ছাড়ের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড়তে ট্রাম্প প্রস্তুত। প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করা হয়।
ট্রাম্প ওই প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে অ্যাক্সিওসকে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের নতুন উদ্যোগের মধ্যে এই বিতর্ক সামনে এসেছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা আলাদাভাবে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, পরবর্তী আলোচনায় গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান যে সাত দিনের প্রস্তাব দিয়েছিল, তার সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর নিউ ইয়র্কে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল আবার চালুর বিষয়ে ইরানের শর্তের জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএকে আরাকচি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি দাবি করে তারা একটি চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে আমরা সেই সমাধানই উপস্থাপন করেছি।’
সোমবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তারাও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
ইরানের প্রস্তাবে ইরান ও লেবাননে সব ধরনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের কথা বলা হয়েছে। এতে ইরানের জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার কথাও রয়েছে।
এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু করবে। ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ বা ধ্বংস করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
শনিবার ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, অর্থনৈতিক চাপের কারণে তেহরান দ্রুত একটি চুক্তি করতে চাইছে। তবে রবিবার অ্যাক্সিওসকে তিনি বলেছেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচকরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন বলে তিনি আশা করছেন।
রবিবার আরাকচি বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানায়নি। তাই ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট। হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার যেকোনো পদক্ষেপ এই শর্তগুলো পূরণের ওপর নির্ভর করবে।’ আলোচনার মাধ্যমেই এই অচলাবস্থার সমাধান সম্ভব বলেও জানিয়েছেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ স্বাভাবিক সময়ে এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই তেহরান কার্যত এই জলপথ অবরোধ করে রেখেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। একই সময়ে জাতীয় জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে তার দল রিপাবলিকান পার্টির।
সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল




