এবার রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মামলা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো- রয়টার্স
কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রোর (তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই) বিরুদ্ধে সম্ভাব্য এই অভিযোগগুলো ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। সে সময় কিউবাবিরোধী মানবিক সংস্থা ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউয়ের দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছিল কিউবা।
এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপের কথা সামনে এল যখন কঠোর মার্কিন অবরোধের কারণে কিউবায় প্রায় সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে উৎখাত করার পর এবার ট্রাম্প প্রশাসন কিউবাতেও সরকার পরিবর্তনের জন্য মরিয়া।
ফিদেল কাস্ত্রোর পর কিউবার প্রেসিডেন্ট হন রাউল কাস্ত্রো। তাকে এখনো দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার বিরুদ্ধে যেকোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের জন্য মার্কিন গ্র্যান্ড জুরির অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল হাভানায় কিউবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই খবরটি প্রকাশ্যে আসে। ওই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দল কিউবাকে ১০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়। তবে শর্ত হিসেবে সরকারকে ‘অর্থবহ সংস্কারের’ দিকে যাওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।
উত্তেজনা বৃদ্ধি
রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মামলা করার এই উদ্যোগ সফল হলে মার্কিন-কিউবা সম্পর্কের চলমান সংকট মোড় নেবে তীব্র উত্তেজনায়। ২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী মাদুরোকে অপহরণের পর বারবার কিউবার কমিউনিস্ট সরকার উৎখাত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সতর্ক করে বলেছিলেন, এবার কিউবার পালা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে প্রথম ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তহবিল ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেন। এরপর হাভানাকে তেল সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর ভারী শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে দ্বীপটিতে কার্যত একটি জ্বালানি অবরোধ তৈরি করেন।
তারপর থেকে, ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের এই দেশটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিপর্যয় চলছে। কিউবার জ্বালানি মন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও লেভি বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছেন, দেশে ডিজেল এবং জ্বালানি তেল পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা ১৯৯৬ সালের বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিসহ কিউবান সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি অফিস এই প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা




