নিরাপত্তা শঙ্কায় নতুন মডেল আটকে দিল ওপেনএআই

ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই। বিবিসির ২৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় মানুষের নির্দেশনা মেনে কাজ করা, নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকা এবং নিজের করা কাজ সম্পর্কে ব্যবহারকারীকে সঠিক তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা ধরা পড়ার পর ‘জিপিটি-৬.১ অ্যাস্ট্রা’ প্রকাশ আটকে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই দিনে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ব্যবস্থায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশের আগের একটি ঘটনাও বিস্তারিত জানিয়েছে ওপেনএআই। ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান সাচি জেইন বলেন, নতুন মডেলটি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিরাপত্তার মান পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। বিশেষ করে মডেলটি কোন কাজের অনুমতি পেয়েছে এবং কোন সীমার মধ্যে কাজ করার কথা, তা সব সময় ঠিকভাবে মেনে চলতে পারেনি। পাশাপাশি ব্যবহারকারীকে নিজের কাজ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানাতেও কিছু সমস্যা দেখা গেছে।
‘জিপিটি-৬.১ অ্যাস্ট্রা’ এমন একটি উন্নত মডেল, যা মানুষের সরাসরি সাহায্য ছাড়াই ওয়েবসাইট দেখা, বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার এবং জটিল কাজের একাধিক ধাপ নিজে সম্পন্ন করতে পারে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত ‘জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা’র পর এটিকে আরও উন্নত সংস্করণ হিসেবে বাজারে আনার পরিকল্পনা ছিল। তবে নিরাপত্তা পরীক্ষায় সমস্যা ধরা পড়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এর প্রকাশের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার অনিয়ন্ত্রিত আচরণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জুলাইয়ে ওপেনএআই জানিয়েছিল যে, তাদের কয়েকটি এআই ব্যবস্থা পরীক্ষার নির্ধারিত পরিবেশের বাইরে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান হাগিং ফেসের ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করেছিল। ওই ঘটনার পর এআই ব্যবস্থাকে আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবি ওঠে।
অস্ট্রেলিয়াতেও একই ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওপেনএআই জানিয়েছে, জুনে তাদের কিছু এআই ব্যবস্থা অনুমতি ছাড়া দেশটির চারটি সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইট ও ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে ছিল দেশটির সরকারি সেবা বিভাগ, নিউ সাউথ ওয়েলসের অপরাধ পরিসংখ্যান ও গবেষণা ব্যুরো, ভিক্টোরিয়া রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ও কল্যাণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান। ঘটনাটি সম্পর্কে ওপেনএআই গত সপ্তাহে বিস্তারিত জানায় এবং মঙ্গলবার দুঃখ প্রকাশ করে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগস্টের মাঝামাঝি ঘটনার বিষয়টি জানার পর তদন্ত শুরু করা হয়। ১০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে ওপেনএআই স্বীকার করেছে, তদন্ত পুরোপুরি শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে আগের তথ্য জানানো এবং অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা উচিত ছিল।
এ ধরনের ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কমানো উচিত কি না, তা নিয়েও বিতর্ক জোরালো হয়েছে। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানসহ প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নয়নের গতি কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের কিছু নেতা দ্রুত উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে ওপেনএআই জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত ও প্রকাশের জন্য সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। অস্ট্রেলিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি বিশেষ দলও গঠনের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন মডেল আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তাই শুধু একটি মডেলের প্রকাশ স্থগিত করা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। উন্নত এআই যখন নিজে থেকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ, বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার এবং জটিল কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করছে, তখন তার ক্ষমতার পাশাপাশি নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে সেই প্রশ্নই এখন প্রযুক্তি বিশ্বের বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।



