জ্বালানি সংকটে মহাবিপদে পাকিস্তান
- বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘এক পদের খাবার’ (ওয়ান ডিশ) নীতি
- বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের শুধু ‘ইকোনমি ক্লাস’-এ করতে হবে ভ্রমণ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি প্রভাব ফেলছে এশিয়া জুড়েও। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ব জুড়ে চলছে জ্বালানি সংকট। অনেক দেশের মধ্যে যে দেশটি লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস বা এলএনজি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের নাম। জ্বালানি সংকটে মহাবিপদে পড়েছে দেশটি। এ তথ্য উঠে এসেছে গত ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংকক, থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গ্যাসটেক কনফারেন্সের দ্য আউটলুক ফর গ্যাস অ্যান্ড এলএনজি মার্কেটস ইন এশিয়া শীর্ষক একটি রিপোর্টে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের সরকার আরোপ করেছে একাধিক আইন।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামার গত বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ফেডারেল সরকার ব্যয়সংকোচন ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে গ্রহণ করেছে পদক্ষেপ। সংগৃহীত আইনের মধ্যে রয়েছে বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘এক পদের খাবার’ (ওয়ান ডিশ) নীতি এবং দোকান, বাজার, শপিং মল, অনুষ্ঠানস্থল ও রেস্তোরাঁ বন্ধের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ। পাকিস্তানের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে গত বৃহস্পতিবার এই পদক্ষেপগুলোর কথা জানিয়েছে। এসব পদক্ষেপের আওতায় সরকারি ব্যয়, গাড়ি কেনা, বিদেশ ভ্রমণ, আনুষ্ঠানিক আয়োজন এবং জ্বালানি ব্যবহারের ওপরও আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দোকান, বাজার ও শপিং মল রাত ৯টায় এবং বিয়ের হল, প্যান্ডেল ও অন্যান্য অনুষ্ঠানস্থল রাত ১০টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও অন্যান্য খাবারের দোকান রাত ১১টায় বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ‘টেক-অ্যাওয়ে’ (খাবার কিনে নিয়ে যাওয়া) ও হোম ডেলিভারি সেবা এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন আইনের বাইরে থাকবে জরুরি সেবা। ফার্মেসি, হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল ল্যাবরেটরি, পেট্রল পাম্প এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা খাত রয়েছে এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত।
সরকারি খাতে জ্বালানি সাশ্রয়: পাকিস্তানে জ্বালানি সাশ্রয়ে নেওয়া পদক্ষেপে অন্তর্ভুক্ত আছে দেশটির সরকারি খাত। তিন মাসের জন্য নেওয়া নতুন প্যাকেজের আওতায় সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ কমানো হবে ৫০ শতাংশ। তবে পরিচালনমূলক কাজ, জরুরি সেবা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহৃত যানবাহন এই জ্বালানি বরাদ্দ হ্রাসের আওতামুক্ত থাকবে।
এ ছাড়া সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কর্মচারীবহির্ভূত ব্যয় (নন-ইআরই) বাজেট ৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি যানবাহনসহ সব ধরনের নতুন গাড়ি কেনার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে নতুন নিয়মে।
এ ছাড়া ফেডারেল সরকারের কর্মীদের বিদেশ সফর ও ভ্রমণ তিন মাসের জন্য সীমিত রাখা হবে। তবে এ নীতিমালার আওতায় সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে থাকবে ছাড়ের ব্যবস্থা। অপরিহার্য বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের শুধু ‘ইকোনমি ক্লাস’-এ ভ্রমণ করতে হবে। পাশাপাশি ভ্রমণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমানোর
লক্ষ্যে সরকারি বৈঠকের ক্ষেত্রে ভিডিও কনফারেন্সিংকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
বিদেশি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠান ছাড়া সরকারি নৈশভোজ আয়োজনের ওপর সরকার আরোপ করেছে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। ব্যয়সংকোচন নীতির আওতায় সরকারি সেমিনার, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সম্মেলনের জন্যও কোনো অর্থ ব্যয় করা হবে না।



