বেলুচিস্তানে চার দিনে ৭১ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানি বাহিনীর

পাকিস্তানের চামান সীমান্তে ফ্রেন্ডশিপ গেটের জনশূন্য প্রবেশপথে পাহারায় এক সেনাসদস্য। ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গত ৯৬ ঘণ্টায় ৭১ জনের বেশি ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর।
রবিবার এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর জিয়ারাত ও আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শাবান ও বেলুচিস্তানের অন্যান্য এলাকায় গত চার দিনে অভিযান চালিয়ে ৭১ জনের বেশি ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। আইএসপিআরের দাবি, নিহতরা ভারত-সমর্থিত আফগান গোষ্ঠীর সদস্য।
আইএসপিআর বলেছে, কোয়েটা জেলার শাবান এলাকায় নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং বেলুচিস্তানভিত্তিক কয়েকটি গোষ্ঠীর একাধিক আস্তানা শনাক্ত করেছিল গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
পাকিস্তান সরকার টিটিপিকে ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ এবং বেলুচিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে উল্লেখ করে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, শাবানে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়। তীব্র গোলাগুলির পর ৩৩ জন ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী’ নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
এরপর গত ৭২ ঘণ্টায় অভিযান আরও জোরদার করা হয়। এতে আরও ২৩ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
আইএসপিআরের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী শাবানের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য তৈরি হওয়া হুমকিও দূর করা হয়েছে। হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর আইএসপিআর জানিয়েছিল, শাবান অভিযানে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। পরদিন এ সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়ায়।
২৫ সেপ্টেম্বর নুশকি জেলায় পৃথক একটি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানেও ১১ জন ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
এ ছাড়া মান্দ এলাকায় আরও ছয়জন ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তারা। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
আইএসপিআর আরও অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আফগান তালেবান সরকারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে ভারত সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।
জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কর্মসূচির অধীনে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশি মদদ ও সহায়তায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো কাজ করে যাবে।
এর আগে আইএসপিআর জানিয়েছিল, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর কেচ ও কোয়েটা ওয়েস্টে পৃথক গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। এ কারণে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান জোরদার করেছে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের মাসিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, বেলুচিস্তানে জুলাইয়ে ৮৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। আগস্টে তা বেড়ে ৮৯টিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ হামলা বেড়েছে ৭ শতাংশ।
বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি।
প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’-এর বিরুদ্ধে অভিযানকে নিরাপত্তা বাহিনীর বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলেও জানিয়েছেন জারদারি।
তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগ ও সেবা পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেছেন। রাষ্ট্রীয় রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি সহায়তায় পাকিস্তানের মাটিতে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূলের প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সন্ত্রাসীদের অসৎ উদ্দেশ্য’ নস্যাৎ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’-এর সদস্যদের নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত চলবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র : ডন




