রয়টার্সের বিশ্লেষণ
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের সামনে কঠিন সমীকরণ, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই কঠিন রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপে পড়ছেন। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করলেও এখন তার সামনে স্পষ্ট কোনো গ্রহণযোগ্য পথ নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। প্রথমটি হলো, ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতায় পৌঁছানো, যাতে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের প্রভাব বাড়তে পারে। দ্বিতীয়টি, নতুন করে সামরিক হামলা চালানো, যা সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। তৃতীয়টি হলো, বর্তমান অচলাবস্থা বজায় রাখা, অর্থাৎ অবরোধ ও সীমিত সামরিক প্রতিক্রিয়ার নীতি অব্যাহত রাখা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কোনো পথই ট্রাম্পের জন্য সহজ নয়।
সাবেক মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ট্রাম্প হয়তো উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন যে যুদ্ধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তার ভাষ্য, শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন বাস্তবতা কোনো না কোনোভাবে স্বীকার করতেই হতে পারে।
মার্কিন প্রশাসন প্রকাশ্যে হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে উন্মুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে অতীতেও এ ধরনের বিষয়ে ট্রাম্প নিজের প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তার অবস্থান থেকে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চ মূল্য, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং যুদ্ধ নিয়ে জনসমর্থন হ্রাস পাওয়ায় তার রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন সামরিক অভিযান রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে সামনের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী। সে জন্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরান ও ওমানের সম্ভাব্য সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউসের একাধিক কর্মকর্তার মূল্যায়ন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়ও কোনো না কোনোভাবে এই সংঘাত চলমান থাকতে পারে। এটি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর হতে পারে। কারণ দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনী প্রচারে তিনি বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পৃক্ততা এড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের বক্তব্যেও দ্বৈত বার্তা দেখা গেছে। একদিকে তিনি নতুন হামলার হুমকি দিয়েছেন, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে সমাধান হলে সেটিই তার পছন্দ, তবে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও তিনি প্রস্তুত।
অন্যদিকে ইরান সতর্ক করেছে, নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ওয়াশিংটনের সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে নিজেদের মূল্যায়ন করছে।
সূত্র : রয়টার্স




