অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে ব্যবসা করা আরও ৬১ কোম্পানি জাতিসংঘের তালিকায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর শুক্রবার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে ইসরায়েলের পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী আরও ৬১টি কোম্পানিকে যুক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘ এসব বসতিকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে।
তালিকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের বিষয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে বয়কট বা বিনিয়োগ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। পশ্চিম তীরে ৩০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বসবাস করেন।
২০২০ সালে প্রথম প্রকাশিত তালিকাটিতে এখন ২১৪টি কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানির বেশির ভাগই ইসরায়েলের। তবে ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও ১০টি দেশের কোম্পানিও তালিকায় রয়েছে।
নতুন করে যুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনের মালিকানাধীন সিনজেনটা গ্রুপের অংশ ইসরায়েলি কীটনাশক প্রস্তুতকারক কোম্পানি আদামা, ইসরায়েলভিত্তিক রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আলোনি হেটজ এবং স্পেনের সালভাত লজিস্টিকা।
তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
তারা এমন কোম্পানির সঙ্গে তালিকায় যুক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ভ্রমণ সংস্থা এক্সপিডিয়া ও বাড়িভাড়া দেওয়ার প্রতিষ্ঠান এয়ারবিএনবিও রয়েছে।
ইসরায়েল পশ্চিম তীরকে দখলকৃত অঞ্চল না বলে বিতর্কিত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে। দেশটি এর আগে বলেছে, বৈধভাবে কাজ করা কোম্পানিগুলোকে এই তালিকার মাধ্যমে অন্যায়ভাবে হেয় করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের কূটনৈতিক মিশন শুক্রবার বলেছে, ‘এটি একটি বিকৃত ব্যবস্থা—একটি গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ সংস্থা এটি তৈরি করেছে, যেখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।’ তারা অভিযোগ করে, ইহুদি রাষ্ট্রকে ‘নিপীড়ন’ করার জন্য এই ডাটাবেজটি তৈরি করা হয়েছে।
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের জন্য নতুন নতুন ফাঁড়ি গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও বেড়েছে। এর জেরে চলতি মাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা বসতিগুলো থেকে আমদানি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর জ্বালানি, খাদ্য, আতিথেয়তা, পরিবহন ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে সক্রিয় কোম্পানিগুলোকে মূল্যায়ন করেছে। এ জন্য দপ্তরটির কাছে গোপনীয়ভাবে জমা দেওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও প্রায় ৬০টি কোম্পানিকে মূল্যায়ন করা হলেও তালিকায় রাখা হয়নি। কারণ ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার লঙ্ঘন করে—এমন কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জাতিসংঘের নির্ধারিত মানদণ্ড তারা পূরণ করেনি।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমের উদাহরণের মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনিদের ভবন ধ্বংসে ব্যবহারের জন্য সরঞ্জাম সরবরাহ, বসতিগুলোর জন্য নজরদারি ব্যবস্থা সরবরাহ এবং পরিবহনের মতো অন্যান্য সেবা দেওয়া, যা এসব বসতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।
অন্যদিকে ব্রিটেনে নিবন্ধিত অনলাইন ভ্রমণ কোম্পানি ওপোডো এবং স্পেনে নিবন্ধিত অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ইড্রিমসের মতো কিছু কোম্পানিকে মূল তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাতিসংঘের মূল্যায়নে দেখা গেছে, আগের তালিকাভুক্তির কারণ হয়ে থাকা কার্যক্রমে এসব কোম্পানি আর জড়িত নয়, এমনটি বিশ্বাস করার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে।
ইড্রিমস গত বছর জানিয়েছিল, তারা অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে থাকা আবাসনের তালিকা থেকে সরে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এসব বসতির আবাসনের তালিকা প্রকাশ বন্ধ রাখবে। কোম্পানিটি বলেছিল, মালিকেরা আবাসনের তথ্য আপলোড করার পর কিছু তালিকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছিল।
ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীরকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ করতে চায়।
তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতীয়তাবাদী সরকার মূলত বসতি স্থাপনকারীদের সমর্থন করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের ইসরায়েলে হামলা এবং পরবর্তী সময়ে গাজা যুদ্ধের পর বসতি নির্মাণ আরও বেড়েছে।
ভ্রমণ সংস্থা এক্সপিডিয়া এর আগে বলেছে, তারা ‘বিতর্কিত এলাকা’ হিসেবে উল্লেখ করা অঞ্চলগুলোর আবাসন তালিকায় স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে। কোম্পানিটির দাবি, এসব তালিকা আন্তর্জাতিক আইন ও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে এবং জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুসরণ করে বাড়তি যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়।




