‘পরস্পরবিরোধী বক্তব্য’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল ইরান

আগামী ২৯ বা ৩০ জুন সুইজারল্যান্ডে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কারিগরি আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
সমঝোতা স্মারক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ‘পরস্পরবিরোধী বক্তব্য’ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলে সতর্ক করেছে ইরান।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ইরানিদের মধ্যে জমে থাকা অবিশ্বাস কমাতে রাখবে না কোনো ভূমিকা। বরং অতীতের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনাগুলোকেই আবার স্মরণ করিয়ে দেবে এটি।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠীর মনে রাখা উচিত, ‘প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি’ নীতির অর্থ হলো পারস্পরিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা এবং সমঝোতা স্মারকের স্পষ্ট ভাষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যাখ্যা দেওয়া থেকে বিরত থাকা।’ তবে ঠিক কোন বক্তবুটি সাংঘর্ষিক সে-বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আগামী ২৯ বা ৩০ জুন সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তার ভাষ্য, ‘কারিগরি দল ২৯ বা ৩০ তারিখে আবার বৈঠকে ফিরবে। আমার বিশ্বাস, সুইজারল্যান্ডেই যাচ্ছে তারা।’
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ফি আরোপের সম্ভাবনারও বিরোধিতা করেন রুবিও। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের জন্য অর্থ আদায়ের যেকোনো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পুরো বিশ্ব অবস্থান নেবে। বিষয়টি এতটাই সরল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে বলেছেন, এটি হতে দেওয়া হবে না।’
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সম্প্রতি ইরান এ জলপথে নিরাপদ চলাচলের বিনিময়ে ফি আরোপের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিল।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার জন্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে মার্কো রুবিওর দেওয়া বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ইসমাইল বাঘাই দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান বাধা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি।
রুবিওর বক্তব্যের একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘কেউ এতে বিভ্রান্ত হবে না। যতদিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিকতাবাদ ও হস্তক্ষেপবাদ অব্যাহত থাকবে এবং তাদের দখলদার মিত্র ইসরায়েল সম্পূর্ণ দায়মুক্তি নিয়ে এ অঞ্চলে অবিরাম যুদ্ধ, গণহত্যা, সন্ত্রাস, সহিংসতা ও নানা ধরনের নৃশংসতা চালিয়ে যাবে, ততদিন একটি শান্তিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য সম্ভব নয়।’
ইরানের এ প্রতিক্রিয়া এমন এক সময়ে এলো, যখন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আভাস মিলছে এবং পারমাণবিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।






