শিক্ষামন্ত্রী
‘ঘুষপাগলা’ সেই কর্মকর্তা বরাখাস্ত হতে পারেন আজই

ধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসলাম খান। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসলাম খানের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আলোচিত এই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে আজই। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতিও রয়েছে শেষ পর্যায়ে।
বুধবার রাত ১১টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন আগামীর সময়কে বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ প্রমাণিত। তাই আমরা আজকেই তাকে বরখাস্ত করে দেব।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক আগামীর সময়কে জানান, তার বরখাস্তের ফাইল ইতোমধ্যে অনুমোদন হয়েছে এবং আগামীকালই এ বিষয়ে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
গতকাল প্রকাশিত আগামীর সময়ের ‘‘ঘুষপাগলা’ শিক্ষা কর্মকর্তা, ২০২৬-এ ঘুষের রেট ‘২০২৬ টাকা’’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি শিক্ষামন্ত্রীর নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, আসলাম খানের কর্মকাণ্ড কোনো সরকারি কর্মকর্তার আচরণ হতে পারে না। তার বিরুদ্ধে পূর্বের ও চলমান বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) কামরুন্নাহার রীমা আগামীর সময়কে জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠির সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রীর নির্দেশনার পর আসলাম খানের বিরুদ্ধে আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হয়। যেহেতু তার চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল। তবে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ এবং একাধিক বিভাগীয় মামলা সচল থাকায় সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাউশির কর্মকর্তারা জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের ওএসডি বা সংযুক্তি করার সুযোগ নেই। কারণ তাদের বেতন সংশ্লিষ্ট উপজেলা থেকেই পরিশোধ করা হয়। অতীতে সন্দ্বীপ ও থানচিতে শাস্তিমূলক বদলি করেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে সাময়িক বরখাস্ত কিংবা বাধ্যতামূলক অবসর ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প ছিল না।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ক্যালেন্ডারের বছরের সঙ্গে মিলিয়ে ঘুষের হার নির্ধারণ করতেন আসলাম খান। ২০২৬ সালে তার ন্যূনতম ঘুষের হার ছিল ২ হাজার ২৬ টাকা। এর আগে ২০২৫ সালে ছিল ২ হাজার ২৫ টাকা। সাধারণ ফাইলে সই করা ছাড়াও বিনামূল্যের বই বিতরণে শিক্ষার্থীপ্রতি ২০ টাকা, এমপিওভুক্তির ফাইলে দুই মাসের সমপরিমাণ বেতন এবং জটিল কাজের ক্ষেত্রে নগদ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শুধু সাধারণ মানুষ নন, তার নিজের দপ্তরের কর্মচারীরাও এ হয়রানি থেকে রেহাই পাননি। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে। অনুসন্ধানে তার ঘুষ গ্রহণের অভিনব পদ্ধতি, খামখেয়ালি আচরণ এবং লুঙ্গি ও গামছা পরে অফিস করার তথ্যও পাওয়া গেছে।
এর আগেও একই ধরনের অভিযোগে তিনি ৩২ বার বদলি এবং ১২ বার বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে এসবকে শাস্তি নয়, ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে দেখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে তিনি। দীর্ঘদিন ধরে শোকজ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নিতে ক্লান্ত মাউশি এবার তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় অনুশাসনও চাওয়া হয়েছে। সর্বশেষ বিজয়নগর উপজেলা প্রশাসনও তাকে দ্রুত প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।




