সরিষাবাড়ী
৪০ রেলক্রসিংয়ের ৩১টিই অরক্ষিত, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

সরিষাবাড়ীতে ৪০ রেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৩১টিই অরক্ষিত। ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ৩১টি অরক্ষিত রেলক্রসিং স্থানীয় মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব ক্রসিংয়ে গেটম্যান ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির আশঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
সরিষাবাড়ী রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, উপজেলার রেলপথে প্রায় ৪০টি ছোট-বড় ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৯টিতে গেটম্যান কর্মরত আছেন। বাকি ৩১টি রেলক্রসিং সম্পূর্ণ অরক্ষিত। পাশাপাশি অনুমোদনহীন কয়েকটি লেভেল ক্রসিং গড়ে ওঠায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এ পথে নিয়মিত যমুনা এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ও জামালপুর এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল করে।
তারাকান্দি রেলস্টেশনের পাশে চার ডাবল লাইনের একটি ব্যস্ত রেলক্রসিং। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, পথচারী এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই পার হচ্ছেন রেললাইন। ক্রসিংয়ের দুই পাশে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও গাছপালা থাকায় অনেক সময় ট্রেন আসার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তা দেখা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলছিলেন, ‘রেলস্টেশনের পাশে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি কলেজ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী এই পথ ব্যবহার করে।’ তার ভাষ্য, এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই।
সম্প্রতি উপজেলার সাতপোয়া এলাকার জামতলা মোড়ের একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় চার বছর বয়সী এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়। নিহত শিশুর বাবা ও বয়ড়া ইসরাইল আহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ইউনুছ আলী বললেন, ‘ক্রসিংয়ে গেটম্যান থাকলে হয়তো আজ আমার মেয়েটি বেঁচে থাকত। আমি চাই না আর কোনো পরিবার এভাবে সন্তান হারানোর বেদনা ভোগ করুক। এখানে দ্রুত গেটম্যান নিয়োগ করা জরুরি।’
কান্দারপাড়া বাসস্টেশন এলাকার রাজু আহমেদ, লিমন মিয়াসহ স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় তিনটি অরক্ষিত রেলক্রসিং রয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ এসব পথ ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। তাদের দাবি, দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত গেট স্থাপন ও গেটম্যান নিয়োগ করতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করে ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়। দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধে ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে দ্রুত গেট নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক গেটম্যান নিয়োগই হতে পারে কার্যকর সমাধান।
সরিষাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, তারাকান্দি স্টেশনসংলগ্ন অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে গেট নির্মাণ ও গেটম্যান নিয়োগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের।






