ছয় মাসে সরকারের গতি ও অগ্রগতি হতাশাজনক : এবি পার্টি

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু
‘৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’সহ বিভিন্ন স্বপ্নময় প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার দলীয়করণ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছে এবি পার্টি।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করে দলটি বলেছে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পথে না হেঁটে জনগণের মতামতকে পদদলিত করার মাধ্যমে নতুন ধরনের বাংলাদেশ গড়ার বার্তা দিচ্ছে সরকার। জনগণ যে নতুন সম্ভাবনা আশা করেছিল এ সরকারের প্রথম ৬ মাসে তা চরম হতাশায় পর্যবসিত হয়েছে।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের ছয় মাস : প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা! জনগণের সামনে পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেছেন এবি পার্টির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ‘একটি নির্বাচিত সরকারকে মূল্যায়নের জন্য ৬ মাস সময় কম নয়। ৬ মাস হলো সরকারের মেয়াদকালের ১০ ভাগের ১ ভাগ। তবে ৬ মাসেই সরকারের পূর্ণাঙ্গ সফলতা বা ব্যর্থতার হিসাব করা ঠিক হবে না।’
তার মতে, ‘সরকারের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য কয়েকটি সূচক থাকে— যার মধ্যে অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, শাসন ব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, গণতান্ত্রিক চর্চার উন্নয়ন ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত।’ তার দাবি, ‘এসব সূচকের বিবেচনায় ৬ মাসে তেমন আশানুরূপ উন্নতি নেই। বরং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের চেয়ে এখন পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এই মূহুর্তে খুবই হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।’
প্রশাসনের বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয় লোক নিয়োগ ও ক্যাম্পাস ভিত্তিক সহিংসতা সরকারের সুশাসন নিয়ে মারাত্মক সংশয় তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন মঞ্জু। তিনি বলছিলেন, ‘দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবন সংগ্রাম অবর্ণনীয় কষ্টে নিপতিত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে শত শত কল কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ১ হাজারেরও বেশি নতুন কল কারখানা চালুতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সরকার যেখানে নতুন কর্মসংস্থানের আশা দেখিয়েছিল সেখানে উল্টো বেকারত্ব আরও বেড়েছে।’
তিনি বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার আচরণ ও কর্মযজ্ঞে মিতব্যয়ীতা-সময়ানুবর্তিতার চর্চা, জৌলুস পরিহার করে সাদামাটা জীবনাচরণের নতুন সংস্কৃতি চালু করার বার্তা দিচ্ছেন; কিন্তু দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তার কোনো প্রভাব নেই। খালখনন, ফ্যমিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা চালুসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করে সামাজিক অর্থনীতিতে যে গতি আনতে চেয়েছেন তার কোনো ছাপ সমাজে আমরা দেখছি না। উপরন্তু এসব নিয়ে নানা দুর্নীতির অভিযোগ আসছে।’
মঞ্জুর দাবি, ‘সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে তাতে বিরোধী দলের আন্দোলন করার কোনো দরকারই হবে না। জনদুর্ভোগের কারণে সাধারণ নাগরিকরাই ধৈর্য্য হারিয়ে রাস্তায় নামবে। ৬ মাসের সার্বিক মূল্যায়নে বলা যায়, সরকারের গতি ও অগ্রগতি হতাশাজনক। সবার আগে বাংলাদেশের পরিবর্তে তারা সবার আগে দলীয়তন্ত্রকে প্রাধান্য দিচ্ছে।’
দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলছিলেন, ‘বিএনপির ভাষায় গণভোট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ৩১ দফা তো কেউ চাপিয়ে দেয়নি, এটি বিএনপির নিজস্ব দফা, সেই দফাগুলোর ৮-১০টিকে অমান্য করা হয়েছে।’
তার দাবি, বিএনপির ওয়াদা ছিল ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়করণ করবে না। কিন্তু তারা সেটি রাখেননি। বিচারবিভাগ ও দুদক পুনর্গঠন নিয়ে ওয়াদাও রাখেনি সরকার। নির্বাচন কমিশনে পর্যন্ত দলীয় নিয়োগ দিয়েছেন তারা। ছয় মাসের মধ্যে বিএনপি তার ৩১ দফা ভুলে গেছে। গুম ও মানবাধিকার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল করে আওয়ামী আইনের চাইতেও দূর্বল আইন করেছে। যারা গুম করে তাদেরকেই তদন্তের দায়িত্বের ক্ষমতা দিয়েছে বিএনপি সরকার।








