বিশেষজ্ঞ মত
ছয় মাসে মূল্যায়ন করা সহজ নয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে নতুন করে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নিয়েছে। এই সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশাও বেশি। কেননা, দীর্ঘদিন পর একটা গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। মাত্র ছয় মাসে সরকার যে কাজ করেছে, কী অর্জন করেছে এবং আরও কী করণীয় ছিল বা কী করতে পারত, তা মূল্যায়ন করা সহজ নয়। মূলত তিনটি দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করা যায়। যদিও ছয় মাস একটা রাজনৈতিক সরকারের (পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট) মূল্যায়নের জন্য খুব বেশি সময় না। গত অন্তর্বর্তী (ইনট্রিম) সরকারের আমলে আমরা অনেকটা স্থিতিশীল (স্টেবিলাইজ) করেছি। যদিও তখন আমরা স্টেবিলাইজ করেছি, সেটি পুরোপুরি না। দেশ নিয়ে যে সমস্যা, তার সমাধান তো সম্পূর্ণভাবে করতে পারিনি। তবে নানা সংস্কারের মধ্যে মানবাধিকার, সংস্কার কমিশন, জুডিশিয়ারি রিফর্ম— আরও কতগুলো মেজর ইস্যু, সেগুলো নিয়ে আমার মনে হয় একটু ধোঁয়াশা আছে। হয়তো বা একটু ধীর (স্লো) পদক্ষেপ। দ্বিতীয়ত যেটা, সেটি অর্থনৈতিক বিষয়।
নতুন সরকার আগের ধারাবাহিকতা (ইনহেরিট) রক্ষা করেছে। অন্য সময়ের চেয়ে একটু ডিফারেন্ট। অন্য সময় পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট আসছে, তখন সবকিছু মোটামুটি ঠিকঠাক ছিল। অতএব এই ছয় মাসে ওরা যেটা করছে, তাদের কতগুলো প্রায়োরিটি উল্লেখ করা আছে। কতগুলো রাজনৈতিক দিক দিয়ে সরকার মোটামুটি সংসদে (পার্লামেন্টে) কথাবার্তা বলছে। সংস্কারের কী কী করেছে, একটা ধোঁয়াশার ব্যাপার আছে। অতএব সেটি আরেকটু ক্লিয়ার করা উচিত।
দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছি। যদিও অনেক সংকটের মধ্যে এই সরকার নতুন দায়িত্ব নিয়েছে। ছয় মাস একটা পলিটিক্যাল গভর্নমেন্টের মূল্যায়নের জন্য সময় খুব বেশি নয়।
ব্যাংকিং ইস্যুতে আমার মনে হয়, আরেকটু দ্রুত কাজ করতে হবে। প্রধানত ফোকাসটা আছে হয়তো, কিন্তু কর্ম প্ল্যানটা দ্রুত করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তি চলছে। রপ্তানি সাফার করছে। এখানে সময়ক্ষেপণ করা যাবে না। সিদ্ধান্তহীনতায় থাকা যাবে না। কার্যক্রম কোনোভাবে থামিয়ে রাখা যাবে না।
তৃতীয়ত, সোশ্যাল সেক্টরে এডুকেশন, হেলথ ইস্যুকে সরকার বেশি পপুলার করছে। যেমন ফ্যামিলি কার্ড। সরকার যদিও এগুলো মোটামুটি শুরু করেছে। একবারে এক-দেড় কোটি লোককে দেবে, সেটি না করে প্রথম দিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুবিধাভোগীদের দিতে পারে। একেবারে খুব সুবিধাবঞ্চিত যারা— দরিদ্র লোককে সুবিধায় আনতে তাদের ফোকাস করতে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। কার্ডের সুবিধা সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে হবে। যদিও টার্গেটিংয়ে দেখা গেছে, ১ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ লোকের ভুয়া কার্ড রয়েছে। অতএব সাবধানে এটা করতে হবে। এটা পপুলার ডিমান্ড। কিন্তু পপুলার ডিমান্ড করে যেন ওয়েস্টেজ অব রিসোর্স না হয়। আমি বলব, মোটামুটি নির্দেশনা ঠিক আছে, একেবারে ডিরেকশন লেস না। আরেকটু দ্রুত করতে হবে। খাঁটি জিনিসগুলো আরও লোকজনকে জানানো জরুরি। সাধারণ লোকের কো-অপারেশন চাচ্ছি। আপনাদের সহায়তা চাচ্ছি। কিন্তু সহায়তা চাচ্ছি কীসের জন্য, কেন সহায়তা করবেন? আমরা তো যেটা করেছি, আপনারা করেছেন, বাকিটুকু করার জন্য কী সহায়তা? একটু স্পেসিফিক না হলে লোকজনকে খালি অনুরোধ, তারপর নির্দেশ, আদেশ— এগুলো কিন্তু বেশিদিন টিকতে পারবে না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমি বলব, এখনো অনেকটা নাজুক আছে। এটির জন্য আমার যেটা মনে হয়, একটা পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট আছে, পলিটিক্যাল এমপি আছে, তাদের একটু সেনসিটাইজ করা দরকার। তারা যেন একটা বিশেষ ভূমিকা নেয়। কারণ, তারা যেন শুধু রাস্তাঘাট নিয়ে চিন্তা করে না। মনে রাখতে হবে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখলে লোকজন শান্তিতে থাকতে পারবে। এই দিকটা আমার মনে হয় আরেকটু বেশি খেয়াল রাখা উচিত। শুধু পুলিশ দিয়ে আর বিজিবি দিয়ে তো সবকিছু করা সম্ভব নয়।
অন্তর্বর্তী সরকার যে অবস্থায় চলে গেল, তখন মূল্যস্ফীতির যে একটা বিষয় ছিল এবং বিনিয়োগের যে পরিস্থিতি ছিল, এই দুটি ইস্যুতে খুব বেশি যে পরিবর্তন হয়েছে, তা মনে হচ্ছে না। পাশাপাশি এখন যুক্ত হয়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। এই জায়গাটায় সাজেশন রয়েছে। হ্যাঁ, সব মিলে গ্যাস সেক্টরে তো ইমিডিয়েটলি ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও ডিফিকাল্ট। এমন পরিস্থিতিতেও সীমিত হিসেবে গ্যাস ম্যানেজ করতে হবে। প্রাকৃতিক গ্যাস বাইরে থেকে আনা দরকার। তারপর এটাকে মনিটর করা, এটা করতে হবে। না হলে একটু ডিফিকাল্ট হবে। ঠিক আছে? মূল্যস্ফীতি বাজারের সঙ্গে জড়িত। সেজন্য বাজার মনিটর করতে হবে। যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিশেষ করে সাপ্লাইটা এনসিওর করতে হবে। কিন্তু সাপ্লাই ইজ নট এনাফ।






