নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি কাজ, ব্যয় বাড়ছে ২০২ কোটি টাকা

ফাইল ছবি
দেশের ১১টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দূর করতে ১৯টি হোস্টেল নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল সরকার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা না থাকায় নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে।
জানা যায়, ‘১০টি (১১টি) মেডিকেল কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধা সংবলিত ১৯টি (২০টি) হোস্টেল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের জুলাই থেকে। ২০২৭ সালের জুনে কাজটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এখন দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হচ্ছে মেয়াদ। সেই সঙ্গে মূল অনুমোদিত ব্যয় ১ হাজার ৪২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা থেকে ২০১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বেড়ে গিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৬৩০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাবটি আগামী বুধবার (১৯ আগস্ট) উপস্থাপন করা হবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব বরবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্পটি শেষ না হওয়ার নেপথ্যে চারটি প্রধাণ কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এগুলো হলো— নতুন করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশোধিত দর তফসিল (দ্বিতীয় সংশোধিত) অনুযায়ী বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির (লিফট) ব্যয় প্রাক্কলন এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সর্বশেষ দর তফসিল অনুযায়ী আসবাবপত্রের ব্যয় প্রাক্কলন।
মন্ত্রণালয় আরও বলছে, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল অন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এরই মধ্যেই নির্মাণ হয়েছে। এজন্য এর পরিবর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২টি ছাত্রী হোস্টেল ভবন নির্মাণকাজ সংশোধিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রকল্প এলাকা হিসেবে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ১০ তলাবিশিষ্ট একটি ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণকাজ যুক্ত করা হয়েছে। এসব কারণে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়।
পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরিন জাহানোর ভাষ্য— ‘প্রস্তাবিত প্রকল্পটি স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও দারিদ্র্য কমাতে ভূমিকা রাখবে। এটি বাস্তবায়নের ফলে ১১টি মেডিকেল কলেজে নতুন একটিসহ মোট ২০টি হোস্টেল নির্মাণ হবে। যা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধান, চিকিৎসা শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন তথা ভবিষ্যতের দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটির সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।’
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতায় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (নির্মাণকারী সংস্থা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় ১১টি মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত ২০টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ১১টি হবে ছাত্রী হোস্টেল এবং ৯টি ছাত্র হোস্টেল। তবে প্রকল্পটি বাস্তব অগ্রগতি তেমন হয়নি। আর্থিক অগ্রগতিও হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ।
প্রকল্পের আওতাভুক্ত কলেজগুলো হলো— ঢাকা মেডিকেলে কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, খুলনা মেডিকেল কলেজ, রংপুর মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ।







