আইডিআরএ’র সঙ্গে এসবিসি ও জেবিসি’র পৃথক বৈঠক
বীমা খাতের আধুনিকায়ন ও দাবি নিষ্পত্তিতে জোর

আইডিআরএ’র সঙ্গে এসবিসি ও জেবিসি’র পৃথক বৈঠক।
দেশের বীমা খাতের আধুনিকায়ন, জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি) ও জীবন বীমা কর্পোরেশনের (জেবিসি) সঙ্গে পৃথক পর্যালোচনা বৈঠক করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। বুধবার আইডিআরএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক দুটিতে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।
বৈঠকে বীমা দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, পুনর্বীমা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন বীমা পণ্য চালু এবং গ্রাহকস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বীমা খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, গ্রাহকস্বার্থ সংরক্ষণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।’ রাষ্ট্রায়ত্ত দুই প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক, দক্ষ ও গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের সাধারণ বীমা খাতকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন দাবির অগ্রগতি পর্যালোচনা করে এসবিসি জানায়, দাবি নিষ্পত্তির জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে তারা এবং অবশিষ্ট দাবিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কাজ করছে। এ সময় জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সময়মতো দাবি পরিশোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান।
বৈঠকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সরকারের আর্থিক চাপ কমাতে সরকারি সম্পদ ও বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোকে বীমা সুরক্ষার আওতায় আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। বাজারে আন্ডার-টারিফিং বা নির্ধারিত হারের নিচে প্রিমিয়াম নির্ধারণের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ও বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশে অধিক পরিমাণ বীমা প্রিমিয়াম ধরে রাখার লক্ষ্যে পুনর্বীমা সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।
অন্যদিকে জীবন বীমা কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. সাঈদ কুতুবের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জীবন বীমা খাতের আধুনিকায়ন ও নতুন ব্যবসায়িক কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। জেবিসির কর্মকর্তারা জানান, গ্রাহকদের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে বীমা খাতে আস্থা বৃদ্ধি তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জীবন ও স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা সম্প্রসারণ, পেনশনভিত্তিক বীমা কাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিদ্যমান বীমা ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও আলোচনায় আসে। বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অ্যাকচুয়ারিয়াল ডাটা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন পদ্ধতি হালনাগাদের পাশাপাশি তাকাফুল বা ইসলামিক বীমা চালুর সম্ভাবনা এবং নতুন বীমা পণ্য উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে দুই প্রতিষ্ঠানের এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) ব্যবস্থা চালুর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। বীমা খাতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সেবার মান বাড়াতে সুপারভাইজরি টেকনোলজি (সুপটেক) এবং রেগুলেটরি টেকনোলজি (রেগটেক) বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকগুলোতে ছিলেন আইডিআরএ, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ও জীবন বীমা কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




