পাবিপ্রবির সমাজকর্ম বিভাগ
এক শিক্ষকের কাঁধে ৬৫ শিক্ষার্থী

সংগৃহীত ছবি
প্রতিষ্ঠার এক দশক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষক সংকট কাটেনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) সমাজকর্ম বিভাগে। বর্তমানে প্রায় ২৬০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান, পরীক্ষা, গবেষণা, একাডেমিক তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মাত্র চারজন শিক্ষক। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত কর্মভার সামলাতে গিয়ে চাপে রয়েছেন বিভাগের শিক্ষকরা।
২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা বিভাগটিতে বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাচ মিলিয়ে ২৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এসব শিক্ষার্থীর পাঠদান পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র চারজন শিক্ষক। সে হিসাবে প্রতি ৬৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন একজন শিক্ষক।
বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে একজন শিক্ষককে গড়ে ১০ থেকে ১১টি পর্যন্ত কোর্স পড়াতে হচ্ছে। ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল প্রকাশ, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরামর্শ, গবেষণা ও ফিল্ডওয়ার্কে তত্ত্বাবধান এবং প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে তাদের। এতে শিক্ষকদের ওপর বাড়তি কাজের চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সমাজকর্ম বিভাগে একজন নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান। তবে বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন শিক্ষক নিয়োগ পেলেও দীর্ঘদিনের সংকট পুরোপুরি সমাধান হবে না। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমের পরিধি বিবেচনায় আরও শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন।
উচ্চশিক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:২০-এর মধ্যে রাখাকে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে তুলনায় পাবিপ্রবির সমাজকর্ম বিভাগে বর্তমানে এ অনুপাত প্রায় ১:৬৫। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে গড়ে ৬৫ জন শিক্ষার্থীর একাডেমিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানী হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক আওয়াল কবির জয়কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অন্যদিকে, এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সহকারী অধ্যাপক সুব্রত কুমার বিশ্বাসকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। ফলে বিভাগে শিক্ষকসংখ্যা আরও কমে যায় এবং বর্তমানে চারজন শিক্ষককেই বিভাগের পাঠদান, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সামলাতে হচ্ছে।
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী উজ্জ্বল মণ্ডল শুভ বলেন, যেখানে একজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা, সেখানে ৬৫ জনের দায়িত্ব একজন শিক্ষকের ওপর। শিক্ষকরা সারাদিন এতগুলো ব্যাচের ক্লাস নিয়েই পর্যাপ্ত সময় পান না। এর পাশাপাশি গবেষণা, ফিল্ডওয়ার্ক ও অন্যান্য বিষয়ে সুপারভাইজার হিসেবেও সহায়তা করেন। এটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই চরম চাপ ও দুর্ভোগের বিষয়। যদিও আমাদের শিক্ষকরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
আরেক শিক্ষার্থী মোশাররফ পারভেজ বলেন, সমাজকর্ম বিভাগের দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট আমাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে সাতটি ব্যাচের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র চারজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। সীমিত জনবল নিয়ে শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে ক্লাস, গবেষণা, ফিল্ডওয়ার্ক ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিভাগের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের ওপর দিয়ে অমানবিক চাপ যাচ্ছে। সব শিক্ষকই গড়ে ১০ থেকে ১১টি করে কোর্স নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক ও অন্যান্য একাডেমিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।







