Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
নজরুল যেন রক্তের ফেরিওয়ালা
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার

জ্বালানি সংকটকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করতে হবে

সাঈদ জুবেরী
সাঈদ জুবেরী
agamir somoy
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৭
জ্বালানি সংকটকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করতে হবে

গ্যাস, বিদ্যুৎ নিয়ে সংকটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন আসছে নানা শিরোনামে। এসব নিয়ে আগামীর সময়ের সঙ্গে কথা বলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাঈদ জুবেরী

আগামীর সময়: আমাদের পত্রিকায় ‘গ্যাসে বিদ্যুতে টানাটানি’ বা ‘উৎপাদন এলোমেলো’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে গতকাল। দেশের বর্তমান এই তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকটের মূল দায় কার?

এম শামসুল আলম: আমদানিনির্ভরতার নীতিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধানে চরম শিথিলতা দেখানো হয়েছে। যদি শুরু থেকেই আমদানিনির্ভরতার নীতি অগ্রাধিকার না পেত, তবে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়টিই প্রথম প্রাধান্য পেত। উচ্চমূল্যের আমদানিকৃত জ্বালানি দিয়ে কখনো টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা সম্ভব নয়, যা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।

আজকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনাকে একটি বাহানা বা অসিলা হিসেবে দেখানো হচ্ছে। যদি আমাদের জ্বালানি খাতের সার্বিক ভিত্তি মজবুত থাকত, তবে একটিমাত্র এফএসআরইউ বিকল হওয়ার কারণে পুরো দেশের জ্বালানি খাত বা বিদ্যুৎ উৎপাদন এভাবে ভেঙে পড়ত না।

এটি একটি জাতীয় দুর্যোগ এবং একে দুর্যোগ হিসেবেই অফিসিয়ালি ডিক্লারেশন দিতে হবে। যে তিন দিন বা নির্দিষ্ট সময় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত থাকবে, সেই সময়ের জন্য সাধারণ মানুষকে আগাম প্রস্তুত করতে হবে। দুর্যোগ বা দুর্বিপাকে সরকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়, কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা এ ধরনের সংকটকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে অন্যায্য মুনাফা লোটে। সরকারকে আইন প্রয়োগ করে নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো অসাধু চক্র জ্বালানি, নিত্যপণ্য বা বিকল্প জ্বালানির দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপাতে না পারে

মূল কথা হলো, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের নীতিগত ও কৌশলগত জ্বালানি অনিশ্চয়তার শিকার। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য টেকসই কোনো নীতি বা কৌশল গ্রহণই করা হয়নি। বরং যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা এই খাতের পতন, লোকসান এবং বকেয়া সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে এবং বিদ্যুৎ খাতে লক্ষাধিক কোটি টাকার ঋণের বোঝা চেপে বসেছে। এক কথায়, পুরো জ্বালানি খাতকে একটি লণ্ডভণ্ড ক্ষেত্রে পরিণত করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের নামে একটি বিশেষ অলিগার্ক গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে পুরো খাত তছনছ করা হয়েছে। এটিকে বাণিজ্যিক খাত হিসেবে গড়ে তোলার যে দাবি করা হয়, তার সব বিরূপ প্রভাব আজ দেশের মানুষ এবং সরকার উভয়কেই পঙ্গু ও জিম্মি করে ফেলেছে।

আগামীর সময়: গ্রামে লোডশেডিংয়ের কথা এতদিন শোনা গেলেও এখন তা রাজধানী পৌঁছে গেছে, এমনকি ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিও অচল হয়ে পড়ছে। দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের কেন এমন চরম লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে?

এম শামসুল আলম: প্রথমত, বিদ্যুৎ উৎপাদন করার মতো সক্ষমতা বা পাওয়ার প্ল্যান্ট আমাদের দেশে বিদ্যমান। দ্বিতীয়ত, সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার, তার চরম অভাব রয়েছে।

সমস্যাটা হচ্ছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বসিয়ে রেখে কেন্দ্রভাড়া বা ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বাবদ বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা সরকারের পকেট থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, সরকার বিদ্যুৎ বিক্রি করে যে রাজস্ব পায়, তাতেও বিরাট ঘাটতি। সরকার হয়তো ১২ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করছে ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকায়। এই ব্যবধানের কারণে সরকার নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল বা বকেয়া পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়ার পরিমাণ জমে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে এবং সার্বিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে লক্ষ কোটি টাকার ওপরে।

সরকারের আর নতুন করে ডলার দিয়ে জ্বালানি আমদানি করার বা চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করার আর্থিক সক্ষমতা নেই। ফলে ডলার সাশ্রয় করতে সরকার জ্বালানি আমদানি কমাতে বাধ্য হচ্ছে এবং এক প্রকার লোডশেডিং মেনে নিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

আগামীর সময়: ডলারের সংকট একটি বড় কারণ। কিন্তু আন্তর্জাতিক সরবরাহ রুট বিঘ্নিত হওয়া সত্ত্বেও সরকারের বিকল্প বাজারের কোনো প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা ছিল না কেন?

এম শামসুল আলম: এই ক্ষেত্রে অর্থের সংকটই মুখ্য। ডলার বা টাকা না থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য বিকল্প উৎস থাকলেও গ্যাস আনা সম্ভব নয়। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ব্যবহার বাড়িয়ে দিলে উৎপাদন ব্যয় বহুলাংশে বেড়ে যাবে, যা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের নেই। সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, ফলে নতুন করে দাম বাড়ানো বা ভর্তুকি দেওয়ার কোনো ঝুঁকি সরকারের নেওয়া সম্ভব নয়।

এই বিপর্যয় কিন্তু কোনো নিছক কারিগরি বা টেকনিক্যাল সমস্যা নয়। যেভাবে বিগত দিনগুলোতে গ্যাস খাত পরিচালনা করা হয়েছে, তাতে এই ধরনের অচল অবস্থা ও দুর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী ছিল

জ্বালানি খাতকে রাজস্ব আয়ের উৎস বানানোর ভুল নীতি বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের লুণ্ঠনমূলক এবং অসংগত নানা ব্যয় বাদ দিলে বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। সেই অর্থ সাশ্রয় করা গেলে এলএনজি বা প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি সরকারের সাশ্রয়ের ভেতরে চলে আসবে। এ ছাড়া ফার্নেস অয়েলভিত্তিক প্ল্যান্ট বন্ধ করে, জ্বালানি দক্ষতা ২০ শতাংশ এবং গ্রিড বিদ্যুতের ১০ শতাংশ সাশ্রয় নিশ্চিত করা গেলে এবং পারমাণবিক শক্তি যোগ করলে এই ভর্তুকির বোঝা দূর করা সম্ভব।

আগামীর সময়: বাসাবাড়ির পাইপলাইনের গ্যাস বন্ধ করে তা সম্পূর্ণ এলপিজিতে রূপান্তর করা এবং পাইপলাইনের গ্যাস শুধু বিদ্যুৎ ও শিল্পে দেওয়ার বিষয়ে আপনার মত কী?

এম শামসুল আলম: অতীতে এলপিজি বাজারকে উৎসাহিত করতে কৃত্রিমভাবে বাসাবাড়িতে সংকট তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি এক চরম বাস্তব সংকট। এখন কাকে গ্যাস দেওয়া হবে আর কাকে দেওয়া হবে না, সেই কঠোর চয়েসে সরকারকে আসতেই হবে।

তবে সামাজিক সাম্য বজায় রাখা আবশ্যক। বিত্তশালীরা অলরেডি ইলেকট্রিক কুকার বা ওভেনে চলে গেছে, কিন্তু বস্তিবাসী বা প্রান্তিক দরিদ্র মানুষের পক্ষে তাৎক্ষণিক বিকল্প জ্বালানি কেনা সম্ভব নয়। তাই ফ্যামিলি কার্ডের মতো প্রান্তিক মানুষদের জন্য ‘এনার্জি সাপোর্ট’ দিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ট্রানজিশন বা রূপান্তর ঘটানো সরকারের দায়িত্ব।

শিল্প খাতের ক্ষেত্রেও ভ্যালু এডিশন দেখে বণ্টন করতে হবে। যেসব ‘সিক ইন্ডাস্ট্রি’ জিডিপি বা রপ্তানিতে ভূমিকা না রেখে ব্যাংক ঋণখেলাপি হয়ে বসে আছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় তাদের গ্যাস পাইপলাইন দেওয়া বন্ধ করে সম্ভাবনাময় শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আগামীর সময়: ২০০৮-১০ সালের প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় (Perspective Plan) জ্বালানি সংমিশ্রণ ও পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির যে লক্ষ্য ছিল, তা অমান্য করার পরিণতি কী হলো? এখন নতুন সরকারের পক্ষে কি এই পলিসি সংশোধন করা সম্ভব?

এম শামসুল আলম: প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় পরিষ্কার বলা হয়েছিল— ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১০ শতাংশ পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি ও ১০ শতাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে এবং তেল থেকে মোটেই বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে না। অথচ সেই নীতি উপেক্ষা করে আমরা তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩০ শতাংশে নিয়ে গেলাম, আর দেশীয় ও আমদানিকৃত গ্যাস এলোমেলোভাবে ব্যবহার করলাম।

ওই অনুশাসন অবমাননা করা ছিল নীতিগত অপরাধ, যার খেসারত আজকের এই ‘জ্বালানি দুর্ভিক্ষ’। বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক অবলিগেশন ও দায়িত্ব হচ্ছে অতীত সরকারের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া। অতীতের অলিগার্কদের মতো যদি ভুল নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়, তবে সংকট আরও ঘনীভূত হবে এবং সরকারকে বড় ধরনের রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে।

আগামীর সময়: সরকার যদি শিল্প ও শহরের সরবরাহ ঠিক রাখতে গ্রামাঞ্চলকে পুরোপুরি অন্ধকারে ফেলে রাখে, তবে?

এম শামসুল আলম: বণ্টনের ক্ষেত্রে সব ভোক্তার সমতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংবিধান কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সমর্থন করে না। বর্তমানে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’ মানুষের মৌলিক ‘জীবনধারণের অধিকারের’ (Right to Life) একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, জ্বালানি না থাকলে খাদ্য নিরাপত্তাও চরম বিঘ্নিত হয়।

আগামীর সময়: চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকট বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে ঠিক কতটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে?

এম শামসুল আলম: এটি শুধু দীর্ঘমেয়াদি নয়, তাৎক্ষণিক ক্ষতিও শুরু হয়ে গেছে। ডায়াবেটিকস যেমন ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, ঠিক তেমনি এই জ্বালানি সংকট আমাদের অর্থনীতির জন্য ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে কারখানার চাকা বন্ধ হচ্ছে। উৎপাদন কমে গেলে শিল্পের আয় কমবে এবং তারা সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দেওয়া বন্ধ করবে বা দিতে পারবে না।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে পণ্যমূল্য লাগামহীন হয়ে পড়েছে। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে, ফলে মানুষ ভোগ ব্যয় ও কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছে।

ভ্যাট-ট্যাক্স আদায় কমে যাওয়ায় সরকারের বাজেট ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এটি সামাল দিতে সরকার ব্যাংক থেকে বেপরোয়া ঋণ নিচ্ছে। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমে ব্যবসা-বাণিজ্য থামছে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে সরকার যদি নতুন টাকা ছাপায়, তবে টাকার মান আরও কমে মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছাবে। ফলে এটি তখন আর অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, একটি মারাত্মক রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেবে।

আগামীর সময়: ক্যাবের পক্ষ থেকে আপনারা শুরু থেকেই আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করছিলেন। আমাদের বর্তমান এই বিকল্পহীনতার পেছনের আসল কারণটি কী?

এম শামসুল আলম: এই বিকল্পহীনতার আসল কারণ হলো— জ্বালানির মতো একটি সেবামূলক খাতকে অসাধু বাণিজ্যিকীকরণের নীতিতে রূপান্তর করা। সরকার নিজেই সেবা খাত থেকে মুনাফাখোর সংস্থায় পরিণত হয়েছে। সরকারি কোম্পানির কর্মচারী ও নীতিনির্ধারকরা অলিগার্কের ভূমিকা পালন করেছে। তারা অসাধু ব্যবসাকে প্রমোট করে সেখান থেকে অবৈধ মুনাফা অর্জন করেছে, লুণ্ঠন করেছে এবং সেই টাকা বিদেশে পাচার করতে সাহায্য করেছে।

আমরা কেন এই বাণিজ্যিকীকরণ করতে গেলাম? উদ্দেশ্য ছিল সাউথ এশিয়ার জ্বালানি-ক্ষুধার্ত (Energy Hungry) দেশগুলোকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য চড়া দামের জ্বালানি বিক্রির বাজারে পরিণত করা। চড়া দাম ও বিশাল মুনাফার লোভ পেয়ে বহুজাতিক কোম্পানি ও অলিগার্করা পঙ্গপালের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে। গত দেড়-দুই দশকে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশকে সফলভাবে একটি জ্বালানি বাজারে পরিণত করা হয়েছে। আজকে তারই বিষময় ফল ভোগ করছি আমরা।

আগামীর সময়: সংকটকালে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ‘মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই।’ নীতিনির্ধারকদের এই প্রতিক্রিয়াকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন এবং এর চেয়ে কার্যকর কি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব ছিল?

এম শামসুল আলম: গ্যাস খাতের এই বিপর্যয় কিন্তু কোনো নিছক কারিগরি বা টেকনিক্যাল সমস্যা নয়। যেভাবে বিগত দিনগুলোতে গ্যাস খাত পরিচালনা করা হয়েছে, তাতে এই ধরনের অচল অবস্থা ও দুর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী ছিল।

এখন বলা হচ্ছে— পুরো সিস্টেম সক্ষম করতে নাকি তিন দিন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে, প্রতিদিন ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাস কম দেওয়া হবে। তার মানে, শুধু দেশীয় গ্যাসের ওপর নির্ভর করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আপনি সবাইকে গ্যাস দিতে পারবেন না।

তাই সরকারের দায়িত্ব ছিল অলস বসে অপেক্ষা না করে এটিকে একটি ‘জাতীয় জ্বালানি দুর্যোগ’ (National Energy Disaster) হিসেবে গ্রহণ করে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা।

প্রবল বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা করোনা মহামারী বা যুদ্ধের মতো সংকটময় সময়ে রাষ্ট্র যেমন কৌশলগত পূর্বাভাস দিয়ে জনগণকে সতর্ক ও প্রস্তুত করে, সরকারের উচিত ছিল আগেই একটি আপৎকালীন সার্বিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা। যাদের গ্যাস দেওয়া সম্ভব নয়, তাদের জন্য বিকল্প জ্বালানির সংস্থান কীভাবে হবে, সেই বিষয়ে মানুষকে আগে থেকে সচেতন করা এবং কৌশলগত রূপরেখা দিয়ে তৈরি রাখা দরকার ছিল। কিন্তু সরকারের মধ্যে তেমন কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না। আমি মনে করি, সংকট সামাল দিতে হলে সরকারকে অবিলম্বে এটিকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে আপৎকালীন জরুরি কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

আগামীর সময়: এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে অসাধু ব্যবসায়ীদের সুযোগ নেওয়া বন্ধ করতে সরকারের ভূমিকা কী হওয়া উচিত?

এম শামসুল আলম: এটিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি জাতীয় দুর্যোগ এবং একে দুর্যোগ হিসেবেই অফিসিয়ালি ডিক্লারেশন দিতে হবে। যে তিন দিন বা নির্দিষ্ট সময় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত থাকবে, সেই সময়ের জন্য সাধারণ মানুষকে আগাম প্রস্তুত করতে হবে।

সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। দুর্যোগ বা দুর্বিপাকে সরকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়, কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা এ ধরনের সংকটকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে অন্যায্য মুনাফা লোটে। সরকারকে আইন প্রয়োগ করে নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো অসাধু চক্র জ্বালানি, নিত্যপণ্য বা বিকল্প জ্বালানির দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপাতে না পারে। বাজার তদারকি জোরদার করে মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

আগামীর সময়: সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সরকারের ঠিক কোন পাঁচটি সংস্কারমূলক পদক্ষেপ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা উচিত?

এম শামসুল আলম: সরকারকে আইন করে জ্বালানি খাত থেকে ‘মুনাফা আহরণ’ বন্ধ করতে হবে। জ্বালানি খাতকে শুধু ‘কস্ট প্রাইস’ বা উৎপাদন খরচে সেবামূলক খাত হিসেবে পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে গত দেড়-দুই দশকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের বিভিন্ন স্তরে যেসব লুণ্ঠনমূলক, অন্যায্য ও অসংগত ব্যয় যুক্ত করা হয়েছে, তা অবিলম্বে পর্যালোচনা করে ছেঁটে ফেলতে হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতেই প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা অনায়াসে সাশ্রয় করা সম্ভব, যা তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা যায়। এটি বাস্তবায়িত হলে সরকারকে আর নতুন করে ভর্তুকি দিতে হবে না এবং ঘাটতি কমে আসবে।

সরকারকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় গ্যাসের ব্যবহার সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। এলএনজি আমদানি কোনোভাবেই ১ হাজার এমএমসিএফডির (MMCFD) ওপরে বাড়ানো যাবে না। অপ্রয়োজনীয় গ্যাসের চাহিদা কমিয়ে জ্বালানি আমদানির পেছনে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

ফার্নেস অয়েল এবং ডিজেলভিত্তিক যেসব উচ্চব্যয়সম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোকে শতভাগ ‘ফেজ-আউট’ বা বন্ধ করে দিতে হবে। তেলের পরিবর্তে যেসব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অতিরিক্ত ইউনিট বসানোর সুযোগ আছে, সেগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে অপেক্ষাকৃত কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।

কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী সৌরশক্তি (Solar Energy) বাড়াতে হবে, যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট গ্রিড বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দ্রুত ৬ টাকা দরে বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করার জন্য দিনরাত কাজ করতে হবে।

প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও ভুটান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে জলবিদ্যুৎ (Hydroelectric Power) আমদানির কৌশলগত আঞ্চলিক চুক্তি বা ‘Regional Cooperation’ দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

এই রূপরেখা বাস্তবায়ন করা গেলে আমাদের বিদ্যমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, যা বর্তমানে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১২.৫০ থেকে ১৩ টাকা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা কমিয়ে ৮ টাকার নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। সরকার যদি এই পথ অনুসরণ করে, তবেই দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ জনগণ এই প্রাণঘাতী ‘জ্বালানি দুর্ভিক্ষ’ থেকে রক্ষা পাবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশক্যাবজ্বালানি উপদেষ্টাঅধ্যাপক ড. এম শামসুল আলমসাক্ষাৎকারজ্বালানি নিরাপত্তা
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    ১৫৩ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করল বাংলাদেশ

    ১৫৩ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করল বাংলাদেশ

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩২

    চট্টগ্রাম বন্দরে গমবাহী জাহাজে তেলের জাহাজের ধাক্কা

    চট্টগ্রাম বন্দরে গমবাহী জাহাজে তেলের জাহাজের ধাক্কা

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০১

    দুপুরের মধ্যে ঢাকায় বজ্রবৃষ্টি, ১০ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

    দুপুরের মধ্যে ঢাকায় বজ্রবৃষ্টি, ১০ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১০

    আসাদগেটে পরিবেশ সুরক্ষায় পুরনো পণ্যের হাট

    আসাদগেটে পরিবেশ সুরক্ষায় পুরনো পণ্যের হাট

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৭

    ভারতে যাচ্ছেন তারেক রহমান, খবর দিল এনডিটিভি

    ভারতে যাচ্ছেন তারেক রহমান, খবর দিল এনডিটিভি

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৪:২০

    ইউরোপযাত্রার ভূমধ্যসাগর রুটে বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি

    ইউরোপযাত্রার ভূমধ্যসাগর রুটে বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫৬

    কবরস্থান নিয়ে বিরোধে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৬২

    কবরস্থান নিয়ে বিরোধে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৬২

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৩১

    কবিতাই ছিল যার দেশ, আশ্রয়

    কবিতাই ছিল যার দেশ, আশ্রয়

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩৩

    খরচ কমাতে সোলার প্যানেল বসবে সরকারি ভবনে: প্রতিমন্ত্রী

    খরচ কমাতে সোলার প্যানেল বসবে সরকারি ভবনে: প্রতিমন্ত্রী

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৪:২৪

    সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু

    সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২০:২৪

    চীনের অনুকরণে বাংলাদেশে হচ্ছে এসডিজি ভিলেজ

    চীনের অনুকরণে বাংলাদেশে হচ্ছে এসডিজি ভিলেজ

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৫:২৭

    ম্যারাথনে দৌড়ানোর সময় দৌড়বিদের মৃত্যু

    ম্যারাথনে দৌড়ানোর সময় দৌড়বিদের মৃত্যু

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৬

    শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

    শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩

    একযোগে পুলিশের ৪৯ পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসর

    একযোগে পুলিশের ৪৯ পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসর

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৫১

    বরফ গলছে, দিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    বরফ গলছে, দিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২২:৫৭

    advertiseadvertise