নজরুল যেন রক্তের ফেরিওয়ালা

রক্ত দিচ্ছেন নজরুল ইসলাম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের যুবক নজরুল ইসলাম। তার ফোন নাম্বার উপজেলার এমনকি আশপাশের জেলার মানুষের ফোনে ফোনে। যেকোনো গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন হলেই তাকে কল দেন রোগীর স্বজনরা। এভাবেই পরিচিতি পেয়েছেন রক্তসৈনিক হিসেবে। সবাই তাকে চেনেন এক নামেই। ১৯৯৯ সালে এ কার্যক্রম শুরু করে ২০০০ সালে গড়ে তোলেন স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন। তার তৈরি ‘রক্ত সৈনিক’-এর নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে কিশোরগঞ্জ ছাড়িয়ে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত। শুধু তা-ই নয়, এ পর্যন্ত নিজেই রক্ত দিয়েছেন ১৫১ বার। আর জোগাড় করে দিয়েছেন কয়েক হাজার রোগীকে।
জানা গেছে, শহরের রানী বাজারের বাসিন্দা ডা. আবদুল খালেকের আদরের সন্তান নজরুল। তিন ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে সবার ছোট হলেও ১৮ বছর বয়স থেকেই দিচ্ছেন রক্ত। এখন তার সংগঠনে আছে দুই সহস্রাধিক স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী। তারা নজরুলের ফোন পেলেই বুঝে যান রক্ত দিতে হবে। মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে ছুটে যান বিভিন্ন হাসপাতালে। ফলে মানুষের সঙ্গে গড়ে উঠছে রক্তের সম্পর্ক।
এদিকে জনসচেতন বাড়াতে অর্থাৎ রক্তদানে তরুণদের উৎসাহ দিতে ২০১৩ সালে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ সাইকেল ভ্রমণে বের হন নজরুল। ১২ দিনে শেষ হয় তার সে কর্মসূচি। আর যাওয়ার পথে কখনো রাস্তার মোড়ে, কখনোবা হাট-বাজারে বিনামূল্যে করেন রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা। এতে ব্যাপক সাড়া পান তিনি।
রক্ত সৈনিক হিসেবে অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে নজরুল বলেছেন, রক্তদান করতে গিয়ে তার রয়েছে নানা অভিজ্ঞতা। দিনের বেলা রক্তদান করে বাসায় ফিরতে পারলেও রাতে ফিরতে পারেননি বহুদিন। হাসপাতালের বেডেই ঘুমিয়েছে অনেক রাত।
‘এই তো সেদিন অর্থাৎ গত ২১ জুলাই রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আল আমিন নামে একজন ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ভাই আমার বোনের জন্য রক্ত লাগবে। ফোন পেয়ে ক্যানসার আক্রান্ত শাহীনুর বেগমকে রক্ত দিতে ছুটে যান রাজধানীর রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইনস হাসপাতালে। রাত ২টার দিকে রক্ত দিয়ে আর বাসায় ফিরতে পারেনি, সেখানেই রাত কাটিয়ে সকালে ফেরেন বাড়ি’— বিরল অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন তিনি।
তার ভাষ্য, মানুষ মানুষের জন্য। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদান করছেন। যতদিন বেঁচে থাকবেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন। আর এ কারণে তিনি পেয়েছেন সামাজিক স্বীকৃতিস্বরূপ একাধিক সম্মাননা। শুধু তা-ই নয়, মানুষের সঙ্গে গড়ে উঠছে রক্তের সম্পর্ক। ফলে সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও আমন্ত্রণ জানানো হয় তাকে।






