সরকারি চাকরি যায় না

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
শিক্ষামন্ত্রী,
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসলাম খান। ঘুষ আদায়ে বিশেষভাবে পারদর্শী তিনি। সিভিটাও বেশ ভারী। কর্মময় জীবনে ৩২ বার বদলি ও ১২ বার বিভাগীয় মামলা খেয়েছেন। অভিযোগের খাতায় ঘুষের সঙ্গে রয়েছে বেপরোয়া আচরণ। বুঝতেই পারছেন, পোড়-খাওয়া লোক। আমলনামা নিশ্চয়ই পৌঁছে গেছে দপ্তরে। না পৌঁছে উপায় নেই, মাউশিও আছে বিপদে। তাকে বান্দরবান থেকে সন্দ্বীপে হাওয়া বদল করিয়েও লাভ হয়নি। সর্বশেষ উত্তপ্ত জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনেও থামানো যায়নি। ঢেঁকি যেখানেই যাক, ধান তো ভানবেই!
ঘুষ-সংস্কৃিত, সম্ভবত মানবসভ্যতার সমবয়সী। যেদিন সমাজে লাভ-লোকসানের হিসাব এসেছে– মানুষের মধ্যে লোভ-লালসাও জন্ম নিয়েছে। তার পর থেকে ক্ষমতাবান ও দুর্নীতিপরায়ণ রাজকর্মচারীকে উৎকোচ দিয়ে কার্যোদ্ধার স্বাভাবিক নিয়মের কাছাকাছি। যতই নিয়মের কাছাকাছি চলে আসুক, চক্ষুলজ্জা বলে একটা ব্যাপার আছে। চাণক্য বলেছিলেন, মাছ কখন জল খায় আর রাজকর্মচারী কখন ঘুষ খায়, এটা বোঝা সহজ কাজ নয়। আসলাম খানের ওসবে বালাই নেই। বছরের সঙ্গে মিল রেখে ঘুষের পরিমাণ ঠিক করে দেন। বর্তমানে ন্যূনতম রেট চলছে ‘২০২৬ টাকা’, গত বছর ছিল ‘২০২৫ টাকা’, রসিক বটে! তবে লাখ টাকার কাজের হিসাব আলাদা।
সরকারি চাকরির মহিমা বোধ হয় এখানেই। অপরাধ যতই গুরুতর হোক, চাকরি সহজে যায় না। তার ওপর অবসরে পেনশন মাস্ট। পত্রিকায় দুকলম লিখলেইবা কী এসে যায়। ফাইলের নিচে চাপা পড়ে যাবে চুনকালির ইতিহাস। মাউশির ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই মিলেও ভদ্রলোকের কিছুই করতে পারছেন না। আসলামদের খুঁটির জোর বেশি। শিকড় অনেক গভীরে। ঘুষের বাজারে সিনিয়র-জুনিয়র নেই, এক টেবিলেই বসেন সবাই। টেবিলের নিচের লেনদেনে ছুঁতমার্গ থাকে না। দপ্তরে দপ্তরে আসলামদের গোয়েন্দা থাকে সজাগ। কোন ফাইল কোন দিকে যাচ্ছে, মাঠ থেকে অভিযোগ দিয়ে কে চিঠি লিখল– সবই চলে যায় আসলামদের কানে। তারপর বড়সড় কোনো হাত নেমে আসে আসলামদের মাথায়। চাকরি টিকে যায়। প্রসেস অনেক লম্বা। আপনার দপ্তর পর্যন্ত ‘অনুশাসন চেয়ে চিঠি’ আসতে আসতে আসলামরা দু-চারটে বাড়ির মালিক বনে যান। এরপর তদন্ত, প্রমাণ ইত্যাদির ভিড়ে আসলামদের অবসরের বয়স হয়ে যায়। ঘুষখেকো আসলামরা ঠাটবাট নিয়ে অবসরে যান। তাদের মাথায় থাকা অদৃশ্য হাতটি আড়ালেই থেকে যায়। তারপর নতুন আসলাম আসেন, সাম্রাজ্যের ভার নেন। ওই যে! সরকারি চাকরি যায় না!
ইতি
এক সচেতন নাগরিক




