চোখের বদলে চোখ নেবে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র চায় মাথা
- পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে বাড়ছে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘চোখের বদলে চোখ’— ইরানের বার্তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি, ‘চোখের বদলে মাথা।’ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ১২তম রাতে (গতকাল বৃহস্পতিবার) এসে এমনই পাল্টাপাল্টি বার্তায় আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক। ধারাবাহিক মার্কিন হামলা এবং ইরানের পাল্টা জবাবের হুমকিতে এ সংঘাত আরও বড় আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পরই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হলে তার জবাবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। এর জবাবে গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, তেহরানের প্রতিরক্ষা নীতি হলো ‘চোখের বদলে চোখ’। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে এবং সেই প্রতিক্রিয়া হবে আগ্রাসনের মাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরদিন বৃহস্পতিবারই পাল্টা জবাব দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি হলো ‘চোখের বদলে মাথা।’ অর্থাৎ, ইরানের কোনো আঘাতের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
রুবিও বলেছেন, ইরান সরাসরি ও পরোক্ষভাবে আলোচনার পথ খুঁজছে। তবে তার অভিযোগ, অতীতে তেহরান নাকি চুক্তিতে পৌঁছানোর পর তা ভেঙেছে বা শর্ত পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে এবং সেই মূল্য প্রতিদিন বাড়ছে।
বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এটি ছিল ইরানের বিরুদ্ধে টানা ১২তম রাতের অভিযান। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমানো। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, নৌ-সক্ষমতা, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও আঞ্চলিক নৌ-চলাচলে হামলার সক্ষমতা কমাতেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে তারাও পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত।
সংঘাতের প্রভাব এখন মধ্যপ্রাচ্যের অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে আবারও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইরানপন্থী ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সাধারণত সরাসরি সর্বাত্মক যুদ্ধের বদলে সীমিত ও হিসাবি পাল্টা আঘাতের কৌশল নেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করার হুমকিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
১২ রাত ধরে চলা এ সংঘাতের পর এখন বড় প্রশ্ন— ইরানের ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি আর যুক্তরাষ্ট্রের ‘চোখের বদলে মাথা’ হুঁশিয়ারি কি শুধু কথার লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি মধ্যপ্রাচ্য আরও বড় যুদ্ধের দিকে এগোবে?




