মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণ যুক্তরাষ্ট্র
- উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের উদ্দেশে ইরান

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অশান্তি-অস্থিরতার বড় কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে চিহ্নিত করেছে ইরান। গতকাল সোমবার এক সম্মেলনে এ মন্তব্য করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘাই। মধ্যপ্রাচ্যে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ দরকার নেই বলেও এ সময় জোরালো আওয়াজ তোলেন তিনি। আলজাজিরা
উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের উদ্দেশে ইসমায়েল বাঘাই বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে একটি ভুল ধারণা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এ অঞ্চলকে। কারণ এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রেরও ভূমিকা রয়েছে। কেউ তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বা আদালতে দাঁড় করাতে পারে না।’ এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোশ উন্মোচন করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ইসরায়েল যাতে কোনো ধরনের জবাবদিহির ভয় ছাড়াই যুদ্ধ চালাতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রই মূলত সেই পরিস্থিতি তৈরি করে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘ইসলামিক ন্যাটো’ কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে ইসমায়েল বাঘাই বলেছেন, ‘আমাদের অঞ্চলে কোনো বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।’
“মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনো বিদ্যমান, তবে এ অঞ্চলের দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোর ঘটনাবলি ভালোভাবে পর্যালোচনা করে শিক্ষা নেবে বলে আশাবাদী তিনি। সেখানকার নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সবাই ‘সম্মিলিত নিরাপত্তা’ জোরদারে কঠোর প্রচেষ্টা চালাবে”— বলেছেন বাঘাই।
হরমুজ যুদ্ধ আগের অবস্থায় ফেরত যাবে না: ইরানের মেহর বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ‘ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলি’র ডেপুটি স্পিকার আলি নিকজাদ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আর যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। এ অঞ্চলে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আগ্রাসী ও বিভ্রান্ত শত্রুকে এই বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে, যুদ্ধের দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি আর যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে না।’ বর্তমানে দেশটির অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো কমিয়ে আনা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে যোগ করেন তিনি।
হরমুজে নিরাপদ চলাচলের আহ্বান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর: হরমুজ ইস্যুতে গতকাল ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাঈদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। সেসময় স্পর্শকাতর এ বাণিজ্যিক প্রণালি দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ওমানের সংবাদমাধ্যম ‘মাস্কাট ডেইলি’র তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। এ সময় সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ওমানের চলমান প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। সংবাদপত্রটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার উপায় নিয়েও তারা আলোচনা করেছেন। জাপানের কিয়োদো নিউজের তথ্য অনুযায়ী, টোকিওতে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে তাকাইচি জানিয়েছেন, হাইথাম বিন তারিক বলেছেন, ওমান সেসব দেশের সঙ্গে পরামর্শ করবে এবং তাদের মতামতকে সম্মান জানাবে, যারা এই জলপথটি ব্যবহার করে।
ইরানের নিরাপত্তা পরিষদে বড় রদবদল: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দেনদরবারের মধ্যেই ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনল তেহরান। দেশের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব পদে আনা হয়েছে সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ডস কমান্ডার মোহসেন রেজায়িকে।




