মিত্রদের কাছে সাড়া না পেয়েই কি ইসরায়েলের দ্বারস্থ সৌদি

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান- রয়টার্স
হুতিদের হামলা মোকাবিলায় সামরিক সহায়তার জন্য মিত্রদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে সৌদি আরব। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে আসায় আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই সামরিক সহায়তার অনুরোধে সাড়া দেওয়ার কথা জানায়নি।
তুরস্ক অবশ্য উত্তেজনা কমাতে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রও সৌদির পাশে থাকার কথা বললেও একই সময়ে হুতিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছে। এ অবস্থায় শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের দ্বারস্থ হয়েছে সৌদি আরব। সম্ভাব্য ইসরায়েলি গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন এক আঞ্চলিক কূটনীতিক।
সামরিক সহায়তা চেয়েও মিলছে না সাড়া
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তার জন্য তিনি এ অনুরোধ জানান। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র গত শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছিল।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সৌদি নেতার সঙ্গে অন্তত দুবার ফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তবে হুতিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর বিষয়ে তিনি সম্মতি দেননি। তারা আরও জানায়, ওয়াশিংটন রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করার কথা জানিয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে সৌদি আরবের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুতিদের হামলা থেকে দেশটিকে রক্ষায় ফ্রান্স, পাকিস্তান, মিসর ও যুক্তরাজ্যকে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে রিয়াদ। এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদেরও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সময় কমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স আলজাজিরাকে বলেছেন, ইয়েমেনে হুতি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারের মধ্যকার পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ‘ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে’। সৌদি অংশীদারদের সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের ‘সামরিক সম্পর্ক রয়েছে এবং আজও এর প্রকাশ দেখা যাচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টম ওয়েলস মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব’ রয়েছে। তবে সৌদি আরব সামরিক সহায়তা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। ব্রিটিশ সেনারা দেশটিতে রয়েছে কি না, সেটিও জানাননি তিনি।এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কর্মকর্তারা ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুতর ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। এতে ইউরোপ সৌদি আরবকে সহায়তা করতে কতটা সক্ষম, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এদিকে গত সপ্তাহের শেষ দিকে ওমানে মার্কিন কর্মকর্তারা হুতিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তিনটি সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানায়, মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে ওমান সরকারের সহযোগিতায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।রয়টার্সের সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে হুতিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেছে, তারা মার্কিন নৌযানগুলোতে হামলা চালানোর কোনো ইচ্ছা রাখে না এবং ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।ইয়েমেনবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক নিল হপ ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবাকে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘দৃঢ় সমর্থন’ অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে।







