এডেন বিমানবন্দর ও রিয়াদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছবি : রয়টার্স
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উত্তরে হুতিদের ছোড়া আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বুধবার ভোরে এডেন বিমানবন্দরের কাছে দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এডেনের নিরাপত্তা বিভাগের গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, ইরানপন্থী হুতিরা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ছুড়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি বিস্ফোরকবোঝাই কয়েকটি ড্রোন দিয়ে বিমানবন্দরটি লক্ষ্য করা হয়। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র রানওয়ের কাছে পড়ে। কায়রো থেকে এডেনগামী ইয়েমেনিয়া এয়ারের ৬০৩ নম্বর ফ্লাইট অবতরণের কয়েক মিনিট আগে ক্ষেপণাস্ত্রটি সেখানে পড়ে। পরে বিমানটি জেদ্দায় ঘুরিয়ে নেওয়া হয়।
বিমানবন্দরের টার্মিনাল থেকে যাত্রী ও কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। শহরের আকাশে ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর রানওয়েতে থাকা ইয়েমেনিয়া এয়ার ও এডেন এয়ারওয়েজের দুটি বিমানও সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলাটি বেসামরিক নাগরিক ও বিমানকর্মীদের জীবনকে সরাসরি ঝুঁকিতে ফেলেছে এবং এটি ‘গুরুতর উত্তেজনা’ তৈরি করেছে।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদের উত্তরে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি হুতিরা ছুড়েছিল। সানা এলাকায় গোয়েন্দা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেটি ধ্বংস করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এডেনে হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়া জেলা পুনর্দখলে অভিযান শুরু করেছে। হুতিদের কাছ থেকে লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।
রোববার প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি হুতিদের নিয়ন্ত্রিত সব এলাকা, এমনকি রাজধানী সানা পুনর্দখলের লক্ষ্যে ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান ঘোষণা করেন। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর ‘হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস’ আল-ওয়াজিয়া পুনর্দখলে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে এবং আল-মানসুরা এলাকার ওপর নজর রাখা কৌশলগত কয়েকটি পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
২০১৪ সালে হুতিরা জোর করে সানা দখল করে। বর্তমানে ইরানপন্থী এই গোষ্ঠী ইয়েমেনের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। গত মাসে তারা পশ্চিম উপকূলের মোকা বন্দর ও বাব আল-মান্দাবের আশপাশের এলাকাও দখল করে নেয়।
সূত্র : আলজাজিরা




