যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ডাক মোজতবা খামেনির

মোজতবা খামেনি- রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধের ফলে গত বছর থেকে ইরানের লঙ্ঘিত অধিকার আইনি প্রক্রিয়ায় পুনরুদ্ধারের জন্য বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। রবিবার বিচার বিভাগ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এ আহ্বান জানান তিনি।
১৯৮১ সালে সন্ত্রাসী বোমা হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ বেহেশতি ও তার ৭২ সঙ্গীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইরানে এ সপ্তাহটি ‘বিচার বিভাগ সপ্তাহ’ হিসেবে পালন করা হয়।
বার্তায় আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, বর্তমানে ইরানি জাতির সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও বিচারিক দায়িত্বগুলোর একটি হলো ‘আন্তর্জাতিক অপরাধী’ এবং ‘অহংকারী ও আগ্রাসী শক্তিগুলোর’ দ্বারা লঙ্ঘিত জাতীয় অধিকার পুনরুদ্ধার করা।
তিনি বললেন, জনগণের অধিকার রক্ষা শুধু ব্যক্তিগত আইনি বিষয় নয়; বরং বিদেশি আগ্রাসীদের অপরাধের বিরুদ্ধে দেশের সামষ্টিক অধিকার রক্ষাও এর অন্তর্ভুক্ত।
খামেনি উল্লেখ করেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিচার বিভাগের দায়িত্ব হলো জনগণের অধিকার রক্ষা, জনস্বার্থ ও বৈধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ইসলামী আইন বাস্তবায়ন এবং আইনের প্রয়োগ তদারকি করা। এসব দায়িত্ব সফলভাবে পালন করা গেলে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।
দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, বিশেষ করে গত বছর থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধী ও আগ্রাসী শক্তিগুলোর দ্বারা লঙ্ঘিত অধিকার পুনরুদ্ধার করা বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
২০২৫ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো দুটি আগ্রাসী যুদ্ধে নিহতদের রক্ত, সেই সঙ্গে ইরান ও দেশের ভেতরে-বাইরে থাকা ইরানিদের ওপর সৃষ্ট শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও নৈতিক ক্ষয়ক্ষতি—এসবের ভিত্তিতে শত শত, এমনকি হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ আইনি মামলা করা সম্ভব বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি মিনাব ও লামের্দে শিশু হত্যাসহ নজিরবিহীন যুদ্ধাপরাধ, চিকিৎসাকেন্দ্র ও জনসেবামূলক স্থাপনায় হামলা এবং নবজাতক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও উল্লেখ করেন।




